Sharanya Ghosh: মহাকাশ গবেষণায় ভারতের লক্ষ্য এবার আরও বড়। ২০৩৫ সালের মধ্যে নিজস্ব স্পেস স্টেশন তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত International Space Summit-এ ভার্চুয়াল ভাষণে ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে ২০৪০ সালের মধ্যে একজন ভারতীয় মহাকাশচারীকে চাঁদে পাঠানোর লক্ষ্যও জানানো হয়েছে।
ভারতের প্রস্তাবিত স্পেস স্টেশনের নাম Bharatiya Antariksh Station (BAS)। এটি একদিনে তৈরি হবে না; ধাপে ধাপে একাধিক মডিউলের মাধ্যমে স্টেশনটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, BAS-এর প্রথম মডিউল ২০২৮ সালে উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এবং সম্পূর্ণ স্টেশনটি ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই স্পেস স্টেশন ভারতের জন্য শুধু একটি প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মহাকাশে দীর্ঘ সময় ধরে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নতুন প্রযুক্তির পরীক্ষা এবং মানব মহাকাশযাত্রা নিয়ে গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারত আরও বড় মানব মহাকাশ অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
ভারতের মহাকাশযাত্রায় ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে। Chandrayaan-3-এর মাধ্যমে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের কাছে সফলভাবে অবতরণকারী প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাস তৈরি করে। এবার সেই সাফল্যের পরবর্তী ধাপ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ গবেষণা এবং মানব মহাকাশযাত্রার দিকে এগোচ্ছে দেশ।
এই পরিকল্পনার সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান space economy-ও গুরুত্বপূর্ণ। ISRO-এর পাশাপাশি দেশের বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিও দ্রুত এগিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি উদ্যোগের এই যৌথ শক্তিকে ভারতের মহাকাশ অভিযানের ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তুলে ধরেছেন।
তবে ভারতের এই মহাকাশ স্বপ্ন শুধু দেশের সাফল্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপরও জোর দিয়েছেন এবং ফ্রান্সসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশকে ভারতের ভবিষ্যৎ মহাকাশ অভিযানের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ হওয়া উচিত সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে।

Recent Comments