অশোক সেনগুপ্ত
শীঘ্রই বসে যেতে হবে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক কর্মী-অফিসারকে। রাজ্য সরকারি প্রশাসনে বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই বিভিন্ন মহলে ফিশফাশ শুরু হয়েছে। এধরণের যাঁরা দীর্ঘদিন সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁরা ক্ষুব্ধ, হতাশ।
সদ্যপ্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অথবা বিভাগীয় মন্ত্রীদের আশীর্বাদপুষ্ট এই কর্মীরা ৬০ বছর বয়স পার হওয়ার পরেও চুক্তির ভিত্তিতে বা পুনর্নিযুক্ত হয়ে চাকরিতে বহাল ছিলেন। মুখ্যসচিব বা উচ্চপদে কর্মরত এরকম কয়েকজন আগেই ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের নাম এই তালিকায় নেই।
নবান্ন থেকে প্রথমে ঘোষণা হয় এরকম ২৪৩ জনকে চিহ্ণিত করা হয়েছে। এঁরা বিভিন্ন দফতরে কাজ করলেও নিয়োগের সঙ্গে হোম-পার (স্বরাষ্ট্র-কর্মীনিয়োগ) দফতর জড়িত। যদিও প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে ২৩২ জনের নাম। সূত্রের খবর, এই তালিকা একাধিকবার ওয়েবসাইটে দেওয়ার পরে তুলে নিয়ে পুনরায় ঘোষিত হয়েছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সরকারি আদেশে জানানো হয়েছে, একই সঙ্গে, ও এই নির্দেশের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন দফতর, বোর্ড, স্বশাসিত সংস্থা এবং পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং-এ (পিএসইউ) কর্মরত মনোনীত সদস্য, অধিকর্তা ও চেয়ারম্যানদের পদের মেয়াদ অবিলম্বে শেষ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত চিফ সেক্রেটারির অনুমতিক্রমে সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি রাজ্যের হোম-পার বিভাগের ওয়েবসাইটে এই ২৩২ জনের নামতালিকা দেওয়া হয়েছে। সরাসরি অন্য দফতর/ বিভাগে কর্মচ্যুতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হচ্ছে।
হোম-পার এর ৯ পৃষ্ঠার এই তালিকায় আছে: মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের ৬ জনের নাম। মুখ্যমন্ত্রীর অধীন তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দেবাশিস হালদার, শুভময় মণ্ডল, নীলাব্জ রায়, জয়দেব দাস, অজিত কুমার কিস্কু, অসীম দাস প্রমুখের নাম আছে। কেবল অর্থ দফতরের এরকম কর্মী আছেন ৬৮ জন।
নবান্ন সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের একটি পত্রের রেশ ধরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিবের অনুমোদনক্রমে জারি করা এই আদেশে পরিষ্কার জানানো হয়েছে যে, যে সকল অ-বিধিবদ্ধ সংস্থা এবং সরকারি দফতরে মনোনয়ন বা বর্ধিত মেয়াদে আধিকারিকরা কাজ করছিলেন, তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া অবিলম্বে কার্যকর ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে।
মমতা ব্যানার্জির আমলে নানা সময় নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছিল বলে মনে করেন ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্নমেন্ট পেনশনারস এন্ড সিনিয়র সিটিজেনস ফোরাম এর সাধারণ সম্পাদক
এবং West Bengal Government Employees Union (Nabaparjaya) এর পূর্বতন সাধারণ সম্পাদক সমীর রঞ্জন মজুমদার। নয়া সরকারের দ্রুততার সঙ্গে সুবিধাভোগীদের বসিয়ে দেওয়ার কাজ করাকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।


Recent Comments