নিজস্ব সংবাদদাতা: কলকাতার তিলজলার জি জে খান রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার মালিক জাফর নিশাদ এবং ম্যানেজারকে গ্রেফতার করল পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে দু’জনকে আটক করার পর বুধবার ভোরে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। বেআইনিভাবে চলা চামড়ার ব্যাগ তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু হয়েছে দুই শ্রমিকের। গুরুতর আহত আরও তিনজন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
মঙ্গলবার দুপুরে আবাসিক বহুতলের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় চলা ওই কারখানায় আচমকা আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো কারখানায়। ধোঁয়ায় ঢেকে যায় এলাকা। প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শ্রমিক বাথরুমে আশ্রয় নিলেও শেষরক্ষা হয়নি। বাথরুমের দরজার লক বিকল হয়ে যাওয়ায় তাঁরা ভিতরে আটকে পড়েন। পরে দমকল কর্মীরা দরজা ভেঙে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুই শ্রমিককে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃতদের নাম মো. হাসানুর জামান (৪০) ও রাজেশ (৩৫)।
ঘটনার পরই রাজ্য প্রশাসনের তরফে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, পুর কমিশনার, দমকল দফতরের আধিকারিক এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের সচিবকে নিয়ে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বুধবার দিনের প্রথমার্ধেই সেই কমিটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছে।
তদন্ত রিপোর্টে একাধিক গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ উঠে এসেছে। সূত্রের খবর, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক ভবনের ভিতরে বেআইনিভাবে কারখানাটি চালানো হচ্ছিল। সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপক ব্যবস্থা ছিল না বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি নির্গমন পথের অভাব, দাহ্য সামগ্রী মজুত এবং ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগকেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শহরের আবাসিক এলাকায় চলা বেআইনি কারখানাগুলির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। পুরসভা ও দমকল যৌথভাবে একাধিক বহুতল এবং ছোট কারখানায় নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিলজলার এই মর্মান্তিক ঘটনা ফের শহরের ঘিঞ্জি এলাকায় নিরাপত্তাহীনভাবে চলা অবৈধ কারখানাগুলিকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলে দিল।

Recent Comments