সোনারপুরে (Sonarpur) তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-র ওপর হামলার ঘটনার পর তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবারের সেই অনভিপ্রেত ঘটনার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের নিরাপত্তা বলয় বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হলো। আগে তাঁর জেড প্লাস (Z+) নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হলেও, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবার তাঁকে এক্স ক্যাটেগরি (X Category)-র নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরকার। এর ফলে আগের তুলনায় আরও বেশি নিরাপত্তারক্ষী তাঁর সুরক্ষায় মোতায়েন থাকবেন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এখন থেকে এক্স ক্যাটেগরি (X Category)-র নিরাপত্তা পাবেন। এতদিন পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে মাত্র দু’জন নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও, নতুন এই সরকারি ব্যবস্থার জেরে সেই সংখ্যা বেড়ে তিন হচ্ছে।
ক্ষমতা বদলের পর কমেছিল নিরাপত্তা
নিউজস্কোপ বাংলা (Newscope Bangla)-র পাঠকদের মনে করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বোচ্চ স্তরের জেড প্লাস (Z+) নিরাপত্তা পেতেন। সেই সময় বিভিন্ন জেলা সফরে তাঁর বিশাল কনভয় এবং নিরাপত্তার জাঁকজমক নিয়ে বিরোধীরা একাধিকবার সরব হয়েছিল।
তবে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সাংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। সেই প্রশাসনিক পর্যালোচনার পরই অভিষেকের জেড প্লাস নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁর হরিশ মুখার্জি রোডের (Harish Mukherjee Road) বাড়ির সামনে থাকা স্থায়ী পুলিশি পাহারাও সরিয়ে দেয় নতুন সরকার। তখন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছিল, একজন লোকসভার সাংসদ হিসেবে আইনত যতটা নিরাপত্তা প্রয়োজন, ততটাই তাঁকে দেওয়া হবে।
সোনারপুরের ঘটনাই কি চোখ খুলল প্রশাসনের?
জেড প্লাস প্রত্যাহারের পর মাত্র দু’জন নিরাপত্তারক্ষী নিয়েই চলাফেরা করছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু গত শুক্রবার সোনারপুরে ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আচমকাই একদল যুবকের হামলার মুখে পড়েন তিনি, যা নিয়ে বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
এই ঘটনার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) গুরুতর অভিযোগ তুলে বলেন যে, হামলাটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও ভয়াবহ ছিল। স্থানীয় কিছু যুবক ও দলীয় কর্মী তৎক্ষণাৎ প্রতিরোধ গড়ে না তুললে পরিস্থিতি আরও আশঙ্কাজনক হতে পারত। অন্যদিকে, তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) দাবি করেন, অভিষেকের নিরাপত্তা ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ নিয়েই এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানান, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো রকম আপস করা বা ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়।
ড্যামেজ কন্ট্রোলে নবান্ন?
তৃণমূল নেতৃত্বের এই ধারাবাহিক আক্রমণ এবং কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে অভিষেককে দেখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পরই নবান্ন নড়েচড়ে বসে। কোনো রকম আইনি ও রাজনৈতিক জটিলতা বাড়াতে না চেয়ে তড়িঘড়ি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিষেকের নিরাপত্তা বৃদ্ধির ফাইল অনুমোদন করে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন সরকার যেমন একদিকে কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগকে খণ্ডন করতে চাইল, অন্যদিকে তেমনই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার কৌশল নিল। এখন থেকে তিনজন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী সার্বক্ষণিকভাবে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের ছায়াসঙ্গী হিসেবে থাকবেন।


Recent Comments