পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব বণ্টনের পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এবার পূর্ণাঙ্গ দফতর পেলেন তাপস রায় (Tapas Roy)। তবে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার দিনেই এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনার কথা জানালেন তিনি। তাপস রায় নিজেই জানালেন যে, দফতর পাওয়ার পর তাঁকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja)।
সম্প্রতি নতুন মন্ত্রিসভার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, তাপস রায় পেয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং অচিরাচরিত শক্তি দফতর। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। এর মধ্যেই তাপস রায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানালেন, দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর কাছে বিভিন্ন মহল থেকে শুভেচ্ছাবার্তা আসছে। এরই মধ্যে প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা তাঁকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
তবে শুধু সৌজন্য বিনিময় নয়, শিল্পমন্ত্রী হিসেবে নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও একেবারে খোলাখুলি কথা বলেছেন তাপস রায়। শিল্পায়নের প্রশ্নে রাজ্য সরকারের অবস্থান যে বদলাতে চলেছে, তা তাঁর মন্তব্যে অনেকটাই স্পষ্ট।
তিনি বলেন,”আমার প্রথম কাজ হবে টাটাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। সিঙ্গুর ও অন্যান্য জায়গায়। সেটা তো দেখতে হবে, টাটাকে বলতে হবে। সিঙ্গুরে যে কী অবস্থা করে রেখেছে ১৫ বছরে। না শিল্প, না কৃষি।”
রাজ্যের শিল্পায়নকে পুনরুজ্জীবিত করতে তাপস রায় আরও দুটি বিশেষ লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, রাজ্যে বহু ছোট-বড় কারখানা অনাচার ও অব্যবস্থার কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বা অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছে। সেই সমস্ত ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের ফের পশ্চিমবঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে আসাই তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
পাশাপাশি, তৃতীয় পদক্ষেপ হিসেবে তিনি দেশ ও বিদেশের বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি আশাবাদী যে, পশ্চিমবঙ্গের মতো পরিকাঠামো এবং বিনিয়োগের এমন উপযুক্ত পরিবেশ আর কোথাও পাওয়া যাবে না। তাই লগ্নিকারীদের আহ্বান জানানোই হবে তাঁর পরবর্তী কাজ।
এদিকে, তাপস রায়ের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও দফতর বণ্টন করা হয়েছে। অর্থ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukherjee)। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chatterjee)। অন্যদিকে, শিক্ষা ও বস্ত্র দফতরের দায়িত্বে রয়েছেন দীপক বর্মন (Deepak Barman)।
পরিবহণ ও শ্রম দফতরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন অর্জুন সিং (Arjun Singh)। কৃষিমন্ত্রীর ভূমিকায় দেখা যাবে দুধকুমার মণ্ডলকে (Dudhkumar Mondal)। পর্যটন ও পরিষদীয় মন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন শঙ্কর ঘোষ (Shankar Ghosh)। বন ও পরিবেশ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন মনোজ ওঁরাও (Manoj Oraon)। অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ ও জনশিক্ষা এবং গ্রন্থাগার পরিষেবার দায়িত্ব পেয়েছেন গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Gourishankar Ghosh)। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কল্যাণ চক্রবর্তী (Kalyan Chakraborty)। অরূপ কুমার দাসকে সেচমন্ত্রী এবং অজয় পোদ্দারকে (Ajay Poddar) পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।


Recent Comments