বন্যার জলে আরও এক প্রাণহানি মালদহের ভূতনিতে। বাড়ির সিঁড়ি থেকে পড়ে জমা জলে ডুবে মৃত্যু হল চার বছরের এক শিশুর। মৃতের নাম সাফিউর রহমান। তার বাড়ি উত্তর চণ্ডীপুরের পূর্ব সামিরুদ্দিন টোলা এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গার জলস্তর বাড়ার পর থেকেই ভূতনির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন। ভাঙা বাঁধ দিয়ে জল ঢুকে বহু বাড়ির একতলা জলের নীচে চলে গিয়েছে। ফলে পরিবারের সদস্যদের দোতলায় আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেই শনিবার বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় জলে পড়ে যায় সাফিউর। বেশ কিছুক্ষণ জমা জলের মধ্যে পড়ে থাকার পর তাকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে ভূতনি থানার পুলিশ নৌকায় করে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে জানান।
সাফিউরের বাবা পরিযায়ী শ্রমিক। মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে ভূতনিতেই থাকত সে। বন্যার জেরে তাঁদের পরিবারের মতো এলাকার বহু মানুষই বর্তমানে চরম সমস্যার মধ্যে রয়েছেন।
এই ঘটনার পাশাপাশি শনিবারই উত্তর চণ্ডীপুরের নাজিরুদ্দিন টোলা এলাকার বাসিন্দা অনিকুল হকেরও মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পাশের একটি গর্তে পড়ে যান তিনি। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বন্যার জলে পরপর প্রাণহানির ঘটনায় ভূতনির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এখনও এলাকার ৫৯টি গ্রাম জলের তলায় রয়েছে। বিস্তীর্ণ আবাদি জমি প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও রাস্তাতেও জল উঠে গিয়েছে। ফলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাতায়াতের জন্য নৌকার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা পরিষেবাও চালু রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠকও হয়েছে। গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দ্রুত জল নামবে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তাঁরা—এই আশাতেই দিন গুনছেন ভূতনির বাসিন্দারা।


Recent Comments