Sk. Armaan Hossain: সাংবাদিকের ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পুলিশের ক্ষমতা ও গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ পুলিশ সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়ের ডিজিটাল তথ্য চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-কে যে নোটিস দিয়েছিল, বুধবার, ১৪ অক্টোবর সেই নোটিস বাতিল করে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ওই নোটিসের ভিত্তিতে সংগ্রহ করা কোনও ব্যক্তিগত তথ্য সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যাবে না। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর এই খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, তদন্তের প্রয়োজন থাকলেও কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যুক্তিসংগত কারণ থাকতে হবে। তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কহীন দীর্ঘ সময়ের তথ্য চাওয়া এবং কম হস্তক্ষেপমূলক বিকল্প থাকা সত্ত্বেও ব্যাপক তথ্য সংগ্রহ করা নিয়ে আদালত প্রশ্ন তোলে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৮ আগস্টের একটি কথিত রোড রেজ বা রাস্তায় গাড়ি চালানোকে কেন্দ্র করে বিবাদ থেকে। এই ঘটনায় অভিষেক উপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গাজিয়াবাদে একটি এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগ ছিল, গাড়ি নিয়ে বিবাদের সময় তিনি অভিযোগকারীকে গালিগালাজ ও হুমকি দিয়েছিলেন এবং তাঁর নাম ও জাতি সম্পর্কে প্রশ্ন করার পর মন্তব্য করেছিলেন। তবে এই অভিযোগের সত্যতা আদালত নির্ধারণ করেনি। সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তাঁর সাংবাদিকতার কাজের কারণে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
এরপর ২২ আগস্ট গাজিয়াবাদ পুলিশ X-কে একটি নোটিস পাঠায়। ওই নোটিসে সাংবাদিকের ডিজিটাল তথ্য চাওয়া হয়েছিল ১ জুন থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের জন্য। এর মধ্যে ছিল লগ-ইন ও লগ-আউটের IP ঠিকানা, বিকল্প ইমেল ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, অবস্থানের তথ্য, ব্যবহৃত যন্ত্রের বিবরণ, IMEI নম্বর এবং বিভিন্ন IP লগ।
পুলিশের বক্তব্য ছিল, এফআইআর দায়ের হওয়ার পর সাংবাদিকের অবস্থান জানতে এবং তাঁকে খুঁজে বের করার জন্য এই তথ্য চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু আদালত লক্ষ্য করে, পুলিশ কমিশনারের হলফনামায় দেওয়া ব্যাখ্যার সঙ্গে X-কে পাঠানো নোটিসে চাওয়া তথ্যের পরিধির মধ্যে অসংগতি রয়েছে।

Recent Comments