পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ফের সক্রিয় হয়ে উঠল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ভোটের ফলাফলের আগের দিনও তৃণমূলের একাধিক হেভিওয়েট নেতা ও বিদায়ী মন্ত্রীকে তলব করা হয়েছে বলে খবর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার’ অভিযোগে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির।
তলব ও হাজিরার নির্দেশ
সূত্রের খবর, আজ অর্থাৎ ৩ মে বিকেলের মধ্যে বা আগামীকাল সকালে নিজাম প্যালেস অথবা সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বেশ কয়েকজন দাপুটে নেতাকে। মূলত শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং রেশন বণ্টন মামলার তদন্তেই এই জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চালানো হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
যাঁদের তলব করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে উত্তর চব্বিশ পরগনা ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকার একাধিক প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন বলে সূত্রের দাবি। যদিও কেন্দ্রীয় সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ
গণনার আগের দিন এই কেন্দ্রীয় তৎপরতাকে সরাসরি ‘চাপ তৈরির কৌশল’ হিসেবে দেখছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এবং গণনার ঠিক আগে এইভাবে নেতাদের ব্যতিব্যস্ত করার অর্থ একটাই— তৃণমূল কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। কিন্তু বাংলার মানুষ জানেন, এই সময় কেন এজেন্সিগুলোকে লেলিয়ে দেওয়া হয়। আমরা আইনি পথেই এর মোকাবিলা করব।”অন্যদিকে, বিরোধী দল বিজেপির দাবি, এজেন্সি তার নিজের গতিতে কাজ করছে। এর সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের কোনও যোগ নেই।
এক নজরে বর্তমান পরিস্থিতি
গণনার দিন: ৪ মে, ২০২৬।
ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI) দফতরে একাধিক নেতার ফাইল নতুন করে খোলা হয়েছে।
রাজ্যের ২৯৩টি আসনে আগামীকাল ফলাফল ঘোষণা হবে (ফলতা বাদে)।
রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোট গণনা। তার আগে রাজনৈতিক নেতাদের এই হাজিরা নির্দেশ বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করল বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে।


Recent Comments