রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দু’দিন পরেও বিরাম নেই ভোট-পরবর্তী হিংসার। মঙ্গলবার রাত থেকে আসানসোল শিল্পাঞ্চল-সহ রাজ্যের একাধিক প্রান্তে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মূলত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে আসানসোল শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের বেশ কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর চালায় এবং পরে সেগুলিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হচ্ছে।
শহর কলকাতার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সক্রিয় রয়েছে প্রশাসন। তিলজলা এবং তপসিয়া এলাকায় অশান্তির ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দুই এলাকার ঘটনায় ইতিমধ্যেই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।অশান্তি পাকানোর অভিযোগে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে।
অশান্তির রেস পৌঁছেছে ক্যানিংয়েও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পশ্চিমের নারায়নপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাখালতলা এলাকায় অশান্তি দেখা গেছে। ওই এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী ছিলেন রহিমা লস্কর। রাতারাতি দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। তার নেতৃত্বে বুধবার এলাকায় ভাঙচুর ও তান্ডব চালানো হয় বলে অভিযোগ জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রশাসন সেখানে পৌঁছালেও তাদের ওপরও হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রায় প্রায় ২০ জনসহ রহিমা লস্করকেও আটক করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে , খড়্গপুরের বিভিন্ন বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর করার অভিযোগ এসেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।
রাজ্যজুড়ে ভোট পরবর্তী এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নজরদারি চালানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কাউকে রেয়াত করা হবে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


Recent Comments