অশোক সেনগুপ্ত
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর (SIR) প্রায় শেষ লগ্নে ভোটদাতা বা আবেদনকারীদের বিভ্রান্ত করতে ভূয়া নির্দেশিকা বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অনেকে ধন্দে (confusion) পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কর্তাদের।
এসআইআর-এ শেষ পর্যন্ত অন্তত ৬০ লক্ষ লোকের নাম বাদ যাবে বলে ওয়াকিবাল মহলের অনুমান। সমস্যাটা আঁচ করে বে কিছুদিন ধরেই নানাভাবে কমিশন সম্পর্কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
কমিশন কর্তাদের দাবি, এসআইআর-এর রূপায়ণে আমরা সংশ্লিষ্ট আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকাই পুরোপুরি অনুসরণ করছি। কিন্তু কোথাও শুনানীতে আসা কারও বা কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলেই সেই মৃত্যুর দায় কমিশনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ দলের দাবিমতো নাম তোলা বা ভাদ দেওয়ায় অস্বীকার করায় বহু জায়গায় হুমকির মুখে বা হেনস্তা হতে হয়েছে সমীক্ষকদের।
বৃহস্পতিবার কমিশনের এক আধিকারিক এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এনকোয়ারি রিপোর্ট’ শিরোনামে বাজারে কমিশনের নামে কৌশলে একটা নির্দেশিকা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় যাঁদের নাম উঠবে না, তাঁরা যদি ১) আর্থিক দিক থেকে খুব গরিব এবং পড়াশোনা না জানা লোক হন, ২) অনেক বছর ধরে একটি বিশেষ এলাকায় থাকেন, ৩) তাঁর নাম তোলায় সায় দিয়ে যদি ২০০২ সালে তালিকায় থাকা স্থানীয় পাঁচ ভোটদাতা নিজের নাম, এপিক নম্বর, পার্ট নম্বর, সিরিয়াল নম্বরের উল্লেখ করে এই আবেদনপত্রে সই করে দেন, ৪) এইআরও, বিএলও এবং সুপারভাইজার যদি তাতে সই করেন, তাহলে এসআইআর তালিকায় না থাকা সেই আবেদনকারীর নাম ভোটার তালিকায় তোলা হবে।

স্পেশাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত সংশ্লিষ্টয়এই নথির উল্লেখ করে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা এরকম কোনও আবেদনপত্র বিলি করিনি। ১৯ জানুয়ারি এবং ৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এসআইআর-এ মান্যতার জন্য যেসব নথির কথা উল্লেখ করেছে, সেগুলো মেনে চলা হচ্ছে। এধরণের ভুয়া নথি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।

