২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) দোরগোড়ায়। তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাম-কংগ্রেস জোট (Left-Congress Alliance) যখন আসন রফার অঙ্ক কষছে, ঠিক তখনই ছন্দপতন। জোটের টেবিলে বসেই হঠাৎ পুরনো ক্ষতে নুন ছিটিয়ে দিল কংগ্রেস। বর্ধমান জেলা কংগ্রেসের এক সভায় সিপিএমের (CPM) উদ্দেশে ধেয়ে এল সেই হাড়হিম করা ‘সাঁইবাড়ি হত্যাকাণ্ড’-এর (Sainbari Incident) প্রসঙ্গ। কংগ্রেস নেতৃত্বের সাফ কথা, “হাত মেলাচ্ছি ঠিকই, কিন্তু রক্তের দাগ কি এত সহজে মোছে?”
হঠাৎ কেন সাঁইবাড়ি প্রসঙ্গ? দলীয় সূত্রে খবর, আসন সমঝোতা নিয়ে দুই দলের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলছে। কংগ্রেসের দাবি করা আসনগুলোতে সিপিএম প্রার্থী দিতে চাওয়ায় ক্ষুব্ধ বিধান ভবন (Bidhan Bhavan)। এরই মধ্যে বর্ধমানের এক জনসভায় প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “১৯৭০ সালে সাঁইবাড়িতে কংগ্রেসের ছেলেদের রক্তে ভাত মেখে খেতে বাধ্য করা হয়েছিল মায়েদের। সেই ইতিহাসের কথা আমরা ভুলিনি। জোট ধর্মের খাতিরে চুপ আছি, কিন্তু সিপিএম যেন দাদাগিরি না দেখায়।”
অস্বস্তিতে বাম শিবির: কংগ্রেসের এই মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট (Alimuddin Street)। সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, ভোটের মুখে এই ইস্যু খুঁচিয়ে তোলা মানে আসলে তৃণমূল বা বিজেপিকেই সুবিধা করে দেওয়া। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, “অতীত আঁকড়ে ধরে থাকলে বর্তমানের লড়াইটা লড়া যাবে না। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এখন একজোট হওয়াটাই সময়ের দাবি।”
নিচুতলায় ফাটল? নেতৃত্বরা যতই ‘দোস্তি’র কথা বলুন না কেন, নিচুতলার কর্মীদের মনের মিল যে এখনও হয়নি, সাঁইবাড়ি প্রসঙ্গ তার জ্বলন্ত উদাহরণ। বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে কংগ্রেস কর্মীরা এখনও সিপিএমের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মেলাতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, “যাদের হাতে আমাদের কর্মীদের রক্ত লেগে আছে, তাদের হয়ে ভোট চাইব কী করে?”
ভোটের আগে এই ‘ঐতিহাসিক বিবাদ’ কি জোটের ভবিষ্যৎ বিশ বাঁও জলে ঠেলে দেবে? নাকি আসন রফার স্বার্থে ফের ধামাচাপা পড়ে যাবে সাঁইবাড়ির কান্না? উত্তরের অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।
