অশোক সেনগুপ্ত
“এসআইআর-এর যাচাইকরণ পর্বে ‘লগইন ডিভাইসের টাওয়ার লোকেশন ও আইপি ঠিকানা সংশ্লিষ্ট রোল অবজার্ভারের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে মিলছে না।” বুধবার এই অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এর প্রতিবাদ করল নির্বাচন কমিশন।
এদিন এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তৃণমূল সাংসদ অভিযোগ করেছেন, ‘রোল অবজার্ভারদের লগইন তথ্য দিয়ে কলকাতার একটি জায়গা থেকে সাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি যদি স্বাধীনভাবে তদন্ত করা হয়, তবে প্রমাণিত হবে লগইন ডিভাইসের টাওয়ার লোকেশন ও আইপি ঠিকানা সংশ্লিষ্ট রোল অবজার্ভারের প্রকৃত অবস্থানের সঙ্গে মিলছে না।’
এ ব্যাপারে ইসি-র এক আধিকারিক এই প্রতিবেদককে বলেন, “এইআইআর-এর বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখতে বিধি মেনে মাইক্রো অবজার্ভাররা নজরদারি রাখছেন। জেলা এবং মহকুমা সদরে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ রাখতে বলেছে শীর্ষ আদালত। কিন্তু বহু ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির সেই পরিবেশ নেই। ওই সব স্থানে কম্পিউটার পরিকাঠামো ও ব্রডব্যান্ড সংযোগ না থাকায় মাইক্রো অবজার্ভাররা অনেকে কলকাতা থেকে কাজ করছেন।”
অভিষেক লিখেছেন, “একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি লেখেন, ‘লগইন ডেটা অপব্যবহার করে প্রশ্ন তৈরি করা হচ্ছে। দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের রাজনৈতিক প্রভুদের নির্দেশে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।” এ ব্যাপারে ইসি-র বক্তব্য, “নিছক রাজনৈতিক অভিযোগ তুলে ইসি-কে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছে। আর ৯/১০ দিনের মধ্যে খতিয়ে দেখার কাজ শেষ করতে হবে। প্রমাণহীন এইসব অভিযোগ নিয়ে আমরা এখন মাথা ঘামাতে রাজি নই।”
প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্বের শুরু থেকেই কমিশনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে। এক পর্যায়ে তা রীতিমতো সংঘাতের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে ছিল সেই সংক্রান্ত শুনানি। সেখানেই রাজ্য, কমিশন ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর বক্তব্য শুনে এসআইআর শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। জানানো হয়েছে, স্ক্রুটিনির জন্য অতিরিক্ত ৭ দিন সময় দেওয়া হবে। অর্থাৎ হিয়ারিং শেষ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। তারপর ৭ দিন অর্থাৎ ২১ তারিখ পর্যন্ত চলবে স্ক্রুটিনি। তারপর প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা।

