এসআইআর নথি যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলায় ভিন রাজ্যের জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালার বেঞ্চ এ দিন এই নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড থেকে জুডিশিয়াল অফিসার নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।
রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি জানিয়ে বলেন, ভিন রাজ্যের বিচারকরা বাংলা ভাষা বুঝতে পারবেন না। উত্তরে প্রধান বিচারপতি বলেন, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের মানুষ বাংলা বোঝেন; এক সময় এই পুরো এলাকায় বাংলার প্রচলন ছিল।
আদালত জানায়, তারা কলকাতা হাই কোর্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেয়েছে। সেখানে উল্লেখ, একজন অফিসার যদি ৫০টি অভিযোগ খতিয়ে দেখেন, তবে মোট নিয়োগের ভিত্তিতে প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে প্রায় ৮০ দিন লাগবে। বর্তমানে ২৫০ জন ডিস্ট্রিক্ট জাজ ও অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ পদমর্যাদার অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি একজন অফিসার দিনে ২৫০টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করেন, তাহলেও প্রায় আশি দিন সময় লাগবে ৮০ লক্ষ অভিযোগ যাচাই করতে।
সিভিল জাজদের মধ্যে যাঁদের অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদেরও কাজে লাগানোর অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কাদের নিয়োগ করা হবে, তা চূড়ান্ত করবেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। প্রয়োজনে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা হাইকোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে অবসরপ্রাপ্ত বা কর্মরত বিচারক চাওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তাঁদের যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করবে কমিশন।
আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন এবং সেই তালিকাভুক্ত ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকার অংশ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এছাড়া, আধার কার্ড ও অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মান্যতা পাবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ‘কাট-অফ ডেট’ অনুযায়ী নথি গ্রহণ করা হবে। এসআইআর-এর নিয়ম সম্পর্কে নিযুক্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের অবহিত করতে হবে এবং নথির গ্রহণযোগ্যতা বোঝানোর দায়িত্ব থাকবে ইআরও ও এএইআরও-দের উপর।
বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, “কোন ভোটার তালিকাভুক্ত হতে এগিয়ে এলেন, তা আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়। আমাদের প্রধান চিন্তা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।”
আরও পড়ুনঃ https://bengali.newscope.press/ranchi-delhi-air-ambulance-crash/


Recent Comments