অশোক সেনগুপ্ত
রাজ্যের নির্দিষ্ট দুই প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুললেন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য। কিভাবে এই কারচুপি হচ্ছে, এক সুপারভাইজার অপরজনকে বিষয়টি বাংলায় ব্যাখ্যা করেছেন। সেই কথোপকথনের অডিয়ো যুক্ত করে বিজেপি-র তরফে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অমিতবাবু মঙ্গলবার এব্যাপারে এক্সবার্তায় লিখেছেন, “নদীয়া একটি সংবেদনশীল সীমান্তবর্তী জেলা। সেখানে ব্যাপক অনুপ্রবেশ এবং মানব পাচারের ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এই জেলায় নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে যে, নদীয়া জেলায়, এসআইআর কার্যধারার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে।
জেলা নির্বাচনী অফিসার অনীশ দাশগুপ্ত (আইএএস) এবং এডিএম (এলআর)
নৃপেন্দ্র সিং (আইএএস) প্রমুখ ২০-০২-২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০ টার দিকে নাকাশিপাড়া ব্লকে উপস্থিত ছিলেন। যৌক্তিক অসঙ্গতি এবং সন্দেহজনক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তাঁরা ERO এবং AERO-কে বিপুল সংখ্যক ভোটার তালিকাভুক্ত করে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপি করার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের অধীনে অন্যান্য ব্লকেও একই ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টির তাৎক্ষণিক এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন, এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৃহত্তর প্রশ্ন হল: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন কেন এসআইআর প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ উঠছে? কেন ভুয়া বা অবৈধ ভোটারদের আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে? এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। কারণ বেশ কয়েকটি জেলা থেকে একই রকম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি, উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা জেলা পর্যায়ে নিযুক্ত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এই বিষয়ে প্রমাণ জনসমক্ষে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানা গেছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়া গণতন্ত্রের ভিত্তি। তাদের দুর্বল করার যেকোনো প্রচেষ্টার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে হবে।”

