মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই মুহূর্তে অত্যন্ত উত্তপ্ত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) এবং ইজরায়েলের (Israel) সঙ্গে ইরানের (Iran) সাম্প্রতিক সংঘাতকে কেন্দ্র করে গোটা বিশ্বজুড়ে এক চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আর এই আকস্মিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সবথেকে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেই অঞ্চলে বসবাসকারী এবং কর্মসূত্রে কিংবা পর্যটনের উদ্দেশ্যে যাওয়া হাজার হাজার প্রবাসী ভারতীয়।
তবে এই ঘোর অন্ধকারের মধ্যেও এবার আশঙ্কার মেঘ কিছুটা হলেও কাটতে শুরু করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ও আতঙ্কিত এলাকাগুলি থেকে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে নিজেদের দেশে ফেরানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া (Air India) এবং ইন্ডিগোর (IndiGo) মতো দেশের প্রথম সারির উড়ান সংস্থাগুলি। প্রিয়জনদের দেশে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছিলেন যে পরিবারগুলি, এই খবরে তাঁদের চোখেমুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে।
স্বস্তির নিশ্বাস আটকে পড়া যাত্রীদের
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাময়িক স্থগিতাদেশ এবং সুরক্ষার খাতিরে রুট বদলের পর অবশেষে জেড্ডা (Jeddah) এবং দুবাই (Dubai) থেকে বিশেষ বিমান পরিষেবা চালু করা সম্ভব হয়েছে। এই উড়ানগুলি ইতিমধ্যেই আটকে পড়া বহু ভারতীয় নাগরিককে নিয়ে আমদাবাদ (Ahmedabad), দিল্লি (Delhi) এবং বেঙ্গালুরুতে (Bengaluru) এসে পৌঁছেছে। বিমান মাটি ছোঁয়ার পর দেশে পা রেখে দীর্ঘ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন যাত্রীরা। তাঁদের চোখেমুখে একদিকে যেমন যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার আতঙ্ক লেগে ছিল, অন্যদিকে তেমনই নিজের মাতৃভূমিতে সুরক্ষিত অবস্থায় ফিরে আসার পরম তৃপ্তিও ছিল স্পষ্ট।
নিরাপত্তার কারণে বাতিল হয়েছিল উড়ান
গত কয়েকদিন ধরেই ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে লাগাতার রকেট ও ড্রোন হামলার কারণে ওই এলাকার আকাশসীমা সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। বাধ্য হয়েই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এয়ার ইন্ডিয়া তাদের মধ্যপ্রাচ্যগামী একাধিক রুটের উড়ান সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়। এমনকি মাঝপথ থেকেও বেশ কিছু বিমানকে ঘুরিয়ে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। একইভাবে ইন্ডিগোও তাদের বহু উড়ান বাতিল করার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হতেই ফের শুরু হয়েছে এই অত্যন্ত জরুরি উদ্ধারকাজ।
দূতাবাসের কড়া সতর্কতা ও হেল্পলাইন
যদিও নিয়মিত বাণিজ্যিক উড়ানের সংখ্যা এই মুহূর্তে এখনও বেশ কম, তবুও আটকে পড়া মানুষদের দ্রুত ফেরাতে সৌদি আরব (Saudi Arabia) এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) থেকে বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ভারতীয় দূতাবাসগুলির তরফ থেকেও জারি করা হয়েছে অত্যন্ত কড়া সতর্কতা। যারা এখনও ওইসব সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রয়েছেন, তাঁদের অপ্রয়োজনীয় ঘোরাঘুরি এড়িয়ে চলার এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের দ্রুত যোগাযোগের জন্য ২৪ ঘণ্টার বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করেছে ভারতীয় দূতাবাস।
ঘুরপথে চলছে বিমান
বিমান সংস্থাগুলির শীর্ষ আধিকারিকদের সূত্র অনুযায়ী, ইরান এবং ইরাকের (Iraq) আকাশসীমা এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ এড়িয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমান চালানো হচ্ছে। এর ফলে ইউরোপ (Europe) বা আমেরিকার (America) দিকে যাওয়া ভারতীয় বা আন্তর্জাতিক বিমানগুলিকে অনেকটাই ঘুরপথে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার জেরে যাত্রার সময় এবং খরচ— দুই-ই অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। তবুও যাত্রীদের জীবনের অমূল্য নিরাপত্তার সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করতে রাজি নয় বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি যতই কঠিন ও ভয়াবহ হোক না কেন, ভারতীয়দের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সরকার এবং উড়ান সংস্থাগুলি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরলস কাজ করে চলেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও বেশ কিছু বিশেষ বিমান ভারত (India) থেকে দুবাই এবং জেড্ডার উদ্দেশ্যে পাড়ি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত ও স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই উদ্ধারকাজ লাগাতার চলবে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক ওয়াকিবহাল মহল।
