বাংলা সিনেমার মুকুটে ফের এক নতুন এবং উজ্জ্বল পালক যুক্ত হল। এবার একেবারে বিদেশের মাটিতে বাজিমাত করল বাংলার এক মফস্বল শহরের একদল তরুণ প্রতিভা। মাত্র ১৬ মিনিটের একটি শর্ট ফিল্ম, আর তাতেই বিশ্বমঞ্চে রীতিমতো জয়জয়কার। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন। মাত্র তিন দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি হওয়া এই বাংলা ছবিটি সুদূর জাপান (Japan)-এর একটি স্বনামধন্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে মোট ছ’টি পুরস্কার ছিনিয়ে নিয়েছে। আর এই অসামান্য ও অবিশ্বাস্য সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে বর্ধমান (Bardhaman)-এর একদল তরুণ, স্বপ্নবাজ এবং স্বাধীন চিত্রনির্মাতা।
স্বাধীন চলচ্চিত্র বা ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকিংয়ের পথটা কখনোই খুব একটা মসৃণ বা সহজ হয় না। সেখানে পদে পদে থাকে তীব্র আর্থিক অনটন এবং পরিকাঠামোগত নানা অভাব। কিন্তু সেই সব পাহাড়প্রমাণ বাধাকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই অসাধ্য সাধন করেছে বর্ধমানের এই তরুণ দলটি। জানা গিয়েছে, এই ১৬ মিনিটের ছবিটির শুটিং সম্পূর্ণ করতে তাদের সময় লেগেছিল মাত্র তিন দিন। দিন-রাত এক করে, প্রায় না ঘুমিয়ে, শুধুমাত্র শিল্পের প্রতি ভালোবাসার টানে কাজ করেছেন ইউনিটের প্রতিটি সদস্য। লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশনের এই মায়াবী জগতে তাঁরা চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, যদি কাজের প্রতি একাগ্রতা, সততা এবং নতুন ধরনের গল্প বলার সাহস থাকে, তবে বাজেটের অভাব কোনোভাবেই সাফল্যের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।
বিদেশের মাটিতে, বিশেষ করে জাপানের মতো একটি প্রথম সারির দেশে, যেখানে সিনেমা বা শিল্পের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত নিখুঁত, সংবেদনশীল এবং সমালোচনামূলক, সেখানে এমন একটি বিশাল সম্মান পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। একটি বা দু’টি নয়, একেবারে ছ’টি ভিন্ন ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে সেরার শিরোপা উঠেছে এই বাংলা ছবিটির মাথায়। সেরা পরিচালনা, সেরা মননশীল গল্প, সেরা চিত্রগ্রহণ থেকে শুরু করে দুর্দান্ত অভিনয়ের মতো বিভাগগুলিতেও ভিনদেশি বিচারকদের মন পুরোপুরি জয় করেছে ছবিটি। শিল্পের যে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা ভাষার গণ্ডি থাকে না, এই শর্ট ফিল্মটি যেন সেটাই আরও একবার প্রমাণ করল।
এই অভাবনীয় খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে স্থানীয় চায়ের ঠেক—সব জায়গাতেই এখন এই শর্ট ফিল্মটিকে নিয়েই জোর চর্চা চলছে। বর্ধমান শহরের বাসিন্দারা তাঁদের ঘরের ছেলেদের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা। এই সম্মান শুধু ওই শহরের নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) তথা গোটা ভারত (India)-এর জন্য এক বিশাল গর্বের বিষয়। বড় বাজেটের চোখ ধাঁধানো বাণিজ্যিক সিনেমার ভিড়ে অনেক সময়ই এই ধরনের ছোট, স্বাধীন এবং সৎ উদ্যোগগুলি প্রচারের অভাবে হারিয়ে যায়। কিন্তু এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেখিয়ে দিল যে, ভালো কনটেন্ট বা শক্তিশালী বিষয়বস্তুর কদর বিশ্বজুড়েই রয়েছে।


Recent Comments