তিলোত্তমার পরিবারের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি কি এবার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন অধ্যায় খুলতে চলেছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই প্রশ্নই উঠে আসছে জোরালোভাবে। একদিকে মেয়ের জন্য বিচার চাওয়ার লড়াই, অন্যদিকে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখার সম্ভাবনা—এই দুইয়ের সংযোগেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
বিজেপির তরফে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন তিলোত্তমার মা—এ কথা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি জানিয়েছেন যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই প্রথম পদক্ষেপ করেছেন। তাঁর কথায়, ব্যক্তিগত শোককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার হোক, তা তিনি চান না—বরং নিজের লড়াইকে নিজের মতো করে এগিয়ে নিতে চান।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং তিলোত্তমাদের বাড়িতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন পরিবারের সঙ্গে। সেই সাক্ষাতের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়—পরিবার কি রাজনীতিতে যোগ দিতে চলেছে? সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি কেন্দ্র থেকেই তাঁকে প্রার্থী করা হতে পারে।
তিলোত্তমার বাবার বক্তব্যেও স্পষ্ট রাজনৈতিক ইঙ্গিত মিলেছে। তিনি সরাসরি বর্তমান রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে বিজেপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং নারী সুরক্ষার প্রশ্নকে সামনে এনেছেন। পাশাপাশি অভয়ার বিচার চেয়ে আন্দোলনকারীদেরও বিঁধেছেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা কিভাবে আছি, তা কেউ জানেনা। এমনকি যারা আন্দোলন করেছে তারাও জানেনা।” তিনি আরও বলেন, “আন্দোলনকে সিপিএম নিজেদের হাতিয়ার করেছেন।” তাঁর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন, “অভয়ার বাবা মা’কে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি, রাজনীতি করুন, কিন্তু যারা আপনার মেয়ের জন্য লড়াই করেছে তাদের অপমান করবেন না।“
তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে প্রশ্নও উঠছে। অনেকের মতে, বিচার পাওয়ার লড়াইকে কি নির্বাচনী রাজনীতির সঙ্গে মেলানো উচিত? কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই প্রসঙ্গে বলেন, বিচার কোনওভাবেই ভোটের ফলাফলের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। তাঁর মতে, নির্বাচনে জয় বা পরাজয়ের সঙ্গে ন্যায়বিচারের কোনও সম্পর্ক থাকা উচিত নয়।
সব মিলিয়ে, ব্যক্তিগত শোক, ন্যায়বিচারের দাবি এবং রাজনৈতিক সুযোগ—এই তিনের মিশেলে তিলোত্তমার পরিবারের সম্ভাব্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ এখন রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।


Recent Comments