দুঃখ-রাগ-হতাশা— সব মিলিয়ে এক্কেবারে ঘেঁটে ঘ। সাধ ছিল প্রার্থী হবেন। জিতবেন। মন্ত্রী হবেন। মন্ত্রী হলে কিভাবে উন্নতি করবেন, প্রায় সবটাই আগাম জানিয়ে দিয়েছিলেন দিলীপ-জায়া রিঙ্কু। মানে, রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার। কিন্তু প্রথমেই হোঁচট। ক্ষেপে তো যাবেনই!
বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট-নিউটাউন আসনে প্রার্থী হতে চেয়ে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। জমা দিয়েছিলেন নিজের বায়োডেটাও! কিন্তু বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থীতালিকায় ওই আসনে অন্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রিঙ্কু। আর সেই সঙ্গে নাম না করে টেনে আনলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহের পরিবারকে।
রিঙ্কু জানিয়েছেন, নিজের ক্ষোভের কথা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে রাজারহাট-নিউটাউনের বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়ার নাম না করে বলেন, ‘‘যাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।’’ শুক্রবার বিধাননগরে বিজেপির দফতরে এসে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলের সঙ্গে দেখা করেন রিঙ্কু। বৈঠকের পরে তিনি বলেন, ‘‘আমাকে টিকিট না দেওয়া উচিত হয়নি। আমি দিলীপ ঘোষের আগে থেকে বিজেপি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।’’
এ বারের বিধানসভা ভোটে প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপকে তাঁর পুরনো কেন্দ্র খড়্গপুরে প্রার্থী করা হলেও বাদ পড়েছেন রিঙ্কু। যে হেতু সাংগঠনিক প্রথা মেনে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রার্থিতালিকা চূড়ান্ত করেন, তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছেই তিনি ক্ষোভ জানিয়ে এসেছেন বলে দাবি দিলীপ-জায়ার। কিন্তু জবাবে ‘কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব’ তাঁকে কী বললেন? রিঙ্কু বলেন, ‘‘আমাকে নেতৃত্ব বলেছেন দাদাকে (দিলীপ) জেতাতে। আমি বলেছি, ‘দাদাকে জেতানোর জন্য আমাকে প্রয়োজন নেই। বিজেপি কর্মীরাই যথেষ্ট। তবে আমি খড়্গপুরে যাব’।’’


Recent Comments