back to top
Monday, April 13, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeবিশ্বIran War: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

Iran War: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের (West Asia) রাজনীতিতে আবারও নতুন করে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। একদিকে পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) এবং অন্যদিকে তাদের দীর্ঘদিনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরান (Iran)। এবার এই দুই দেশের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এক নতুন ও ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে, যা সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ ফেলেছে। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান (Tehran)। এই ঘোষণায় গোটা বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং যুদ্ধের দামামা যেন স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে।

ঘটনার মূল সূত্রপাত ঘটে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি কড়া আল্টিমেটাম বা চরম সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি গণমাধ্যমের সামনে সাফ জানিয়ে দেন যে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি যদি স্বাভাবিক এবং সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত না হয়, তবে আমেরিকান সামরিক বাহিনী সরাসরি ইরানি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালাবে। ট্রাম্পের এই হুমকির ঠিক পরই সোমবার সকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পালটা একটি বিশেষ এবং জরুরি বিবৃতি পাঠ করা হয়।

​সেই টেলিভিশন সম্প্রচারে ইরানের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শাখা, আধাসামরিক বাহিনী বিপ্লবী গার্ড (Revolutionary Guard) অত্যন্ত কঠোর এবং স্পষ্ট ভাষায় বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দেয় যে, যদি তাদের মাটিতে বা তাদের কোনো স্থাপনায় বিন্দুমাত্র আঘাত আসে, তবে তার পালটা পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং ধ্বংসাত্মক।

বিপ্লবী গার্ডের পক্ষ থেকে সম্প্রচারিত ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছি। যদি আমাদের কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, তবে ইরানও হাত গুটিয়ে চুপ করে বসে থাকবে না। আমরা অত্যন্ত কঠোরভাবে পালটা জবাব দেব। আমাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে দখলদার শাসন এবং আঞ্চলিক ওই সমস্ত দেশগুলোর বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যেখান থেকে সরাসরি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।”

আরো পড়ুন:  Iran War: ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাচ্ছেন ভ্যান্স, তবে কি ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে?

এই বিবৃতিতে ‘দখলদার শাসন’ বলতে মূলত ইজরায়েল (Israel)-কে অত্যন্ত কড়াভাবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, তারা আরও বিশদভাবে যোগ করেছে যে, যেসব বৃহৎ অর্থনৈতিক, শিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে আমেরিকানদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশীদারি বা শেয়ার রয়েছে, সেগুলোও ইরানের মিসাইল ও ড্রোন হামলার শিকার হবে। “এ বিষয়ে আপনারা মনে কোনো সন্দেহ রাখবেন না যে, আমরা আমাদের কথা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব”—বিবৃতিতে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে।

এই কঠোর বার্তাটি মূলত উপসাগরীয় আরব দেশ (Gulf Arab countries)-গুলোর উদ্দেশ্যেও একটি প্রচ্ছন্ন সতর্কবার্তা। কারণ, এই প্রতিবেশী দেশগুলোর অনেক স্থানেই বিশাল বিশাল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি অবস্থিত এবং স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি অবকাঠামো থেকেই সেখানে সমস্ত প্রয়োজনীয় রসদ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ইরান এই বার্তার মাধ্যমে তাদের প্রতিবেশীদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, যদি একবার সংঘাত শুরু হয়, তবে তার লেলিহান শিখা শুধু আমেরিকা ও ইরানের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments