মধ্যপ্রাচ্যে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। শনিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump) ইরানকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন। তিনি জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে আমেরিকা ইরানের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে। ট্রাম্প বলেন, সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়েই হামলা শুরু হবে এবং সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ট্রাম্পের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান থেকে কড়া পাল্টা বার্তা আসে। ইরানের সামরিক মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি জানান, ইরানের বিদ্যুৎ বা জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা হলে ওই অঞ্চলে থাকা আমেরিকার তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা, তেল শোধনাগার এবং পানীয় জল পরিশোধন কেন্দ্রগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালী শত্রু জাহাজ ছাড়া অন্য সব দেশের জন্য খোলা রয়েছে। তবে আমেরিকা হামলা চালালে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট (Masoud Pezeshkian) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানকে ধ্বংস করার স্বপ্ন যেন কেউ না দেখে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার মধ্যে সোমবার ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে কিছু ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং সেই কারণে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা আরও পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে।
এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২-১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক মহলের মতে, পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং যেকোনো ভুল পদক্ষেপ বড় সংঘাতে পরিণত হতে পারে। এখন বিশ্ব তাকিয়ে আছে আমেরিকা ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।


Recent Comments