অশোক সেনগুপ্ত
গত মধ্যরাতে কলকাতার সিইও অফিস ঘেরাও করে তৈরির চেষ্টা হল। এর কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। খুব সকালে এক্সবার্তা, ফেসবুক এবং ইন্সটাগ্রামে সিইও অফিসের তরফে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। গত প্রায় চার মাসে সিইও অফিসের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয়েছে। সূত্রের খবর, গত রাতের ঘটনার পর পুলিশ কর্তৃপক্ষ এই নিরাপত্তার বিষয়টিতে আরও নজর দিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন।
কমিশনকে উপর্যুপরি হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর মঙ্গলবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার জনসভায় কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেন। বুধবার ভোরে সিইও অফিসের এক আধিকারিক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ৪৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিয়ো যুক্ত করে এই বিক্ষোভের কথা জানান। তিনি লেখেন, “বেলেঘাটা কিছু গুণ্ডাকে সঙ্গে নিয়ে গভীর রাতে এক কাউন্সিলর সিইও-র কার্যালয় ঘেরাও করে স্লোগান দেন। এ ধরনের সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অবাধ ও সুষ্ঠু বিধানসভা নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসিআই সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে।”
প্রসঙ্গত, এসআইআর-এর শুরু থেকে নানাভাবে অপপ্রচার চালিয়ে এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লোক খ্যাপানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সর্বোচ্চ আদালত এ ব্যাপারে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক করে দেয়। তার পরেও এ রকম আইনভঙ্গের একাধিক ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি সিইও-র কার্যালয় স্থানান্তরিত হয়েছে ১৩ স্ট্র্যান্ড রোডে। সেখানে দিবারাত্র পুলিশি ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ভবনের গা ঘেঁষে, ফুটপাথের ওপর তৈরি হয়েছে একটি শাসক দলের মঞ্চ। সোমবার কার্যালয়ের সামনে বিশাল সমাবেশ করে তৃণমূল সমর্থকরা।
সোমবার তৃণমূল নেতা তথা দলের তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিইও দফতরে গিয়ে অভিযোগ করেন, ‘‘বিহার, উত্তরপ্রদেশ থেকে লোক ঢোকাচ্ছে, বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ ঢুকছে কমিশনে’’! সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করার চ্যালেঞ্জ করেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে। যদিও কমিশনের তরফে এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মধ্যরাতে কলকাতার সিইও অফিসের সামনে সমাবেশ করল তৃণমূল।


Recent Comments