নাসার (NASA) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চন্দ্রাভিযান। আর্টেমিস ১ ছিল একটি মানববিহীন পরীক্ষামূলক মিশন, কিন্তু আর্টেমিস ২-তে প্রথমবারের মতো চারজন মহাকাশচারী থাকবেন। তাঁরা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। এটি ১৯৫২ সালের অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর চাঁদের কাছাকাছি মানুষের প্রথম পদার্পণ হবে।
চাঁদের একপাশ সবসময় পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে, যাকে আমরা ‘নিয়ার সাইড’ বলি। অন্য পাশটি অর্থাৎ ‘ফার সাইড’ বা উল্টোপিঠ পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। যখন মহাকাশযান চাঁদের এই অন্ধকার বা দূরবর্তী অংশ প্রদক্ষিণ করে, তখন পৃথিবী ধীরে ধীরে চাঁদের দিগন্তের নিচে হারিয়ে যায় (অস্তমিত হয়)। এই বিরল দৃশ্যটি ধারণ করা প্রযুক্তিগতভাবে খুবই চ্যালেঞ্জিং কারণ ওই সময় পৃথিবীর সাথে সরাসরি কোনো রেডিও যোগাযোগ থাকে না।
অ্যাপোলো আমলের ছবির তুলনায় আর্টেমিস মিশনের ক্যামেরা এবং সেন্সর অনেক বেশি আধুনিক। ফলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল এবং মহাকাশের অন্ধকারাচ্ছন্ন প্রেক্ষাপটে আমাদের গ্রহের অতি উচ্চমানের (High Definition) ছবি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
এই মিশনের সফলতার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী ‘আর্টেমিস ৩’ মিশন পরিচালিত হবে, যার মাধ্যমে মানুষ পুনরায় চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।
এই অভিযানে চারজন সদস্য থাকছেন— রিড ওয়াইজম্যান (কমান্ডার), ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট), ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। তাঁদের এই যাত্রা পরবর্তী মঙ্গল অভিযানের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করবে।
চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর অস্তমিত হওয়ার এই ছবিগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় মহাবিশ্বে আমাদের গ্রহের ক্ষুদ্রতা এবং একইসাথে মানুষের অদম্য কৌতূহলকে। আর্টেমিস ২ কেবল একটি মিশন নয়, এটি মানবজাতির আবারও মহাকাশ জয়ের একটি নতুন অধ্যায়।


Recent Comments