back to top
Monday, April 20, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিএবার আই-প্যাক (I-PAC)-এর আরেক ডিরেক্টরকে তলব ইডির (ED), উঠল হাজিরা এড়ানোর অভিযোগ

এবার আই-প্যাক (I-PAC)-এর আরেক ডিরেক্টরকে তলব ইডির (ED), উঠল হাজিরা এড়ানোর অভিযোগ

এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate) বা ইডি এবার নজর ঘুরিয়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার দিকে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এবার আই-প্যাক (I-PAC)-এর আরও এক ডিরেক্টর বা শীর্ষ কর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। আই-প্যাক-এর অন্যতম ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংহকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ দিল্লির প্রবর্তন ভবনে ইডির দফতরে তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও, দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তিনি সেখানে পৌঁছাননি বলে জানা গিয়েছে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

​সংস্থাটির পুরো নাম ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (Indian Political Action Committee)। জনপ্রিয় ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) হাত ধরে এই সংস্থার পথচলা শুরু হয়েছিল। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে ভারতের (India) বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারের রূপরেখা তৈরি করা থেকে শুরু করে ঘুঁটি সাজানোর কাজটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করেছে এই সংস্থা। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal), বিহার (Bihar), এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মতো রাজ্যে তাদের সাফল্য রীতিমতো নজরকাড়া। কিন্তু এবার সেই সংস্থার অন্দরমহলেই তদন্তের জাল গোটাচ্ছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।

​জানা গিয়েছে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বেশ কিছু অসঙ্গতির কারণেই ইডির তরফ থেকে এই তলব করা হয়েছে। এর আগে আই-প্যাকের আরও কয়েকজন আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল তদন্তকারী আধিকারিকরা। সেই জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরেই বেশ কিছু নতুন তথ্য উঠে এসেছে বলে ইডি সূত্রে খবর। আর সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এবার সংস্থার আরও এক ডিরেক্টর ঋষি রাজ সিংহকে তলব করা হয় দিল্লির (Delhi) সদর দফতরে।

​তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য হল, নির্বাচনের সময় যে বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয়, তার উৎস কী সেটা খুঁজে বের করা। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট থেকে এই সংস্থায় কোনও বেআইনি ফান্ডিং বা তহবিল ঢুকেছে কি না, সেটাই মূলত খতিয়ে দেখতে চাইছে ইডি। প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট বা পিএমএলএ-এর অধীনে এই তদন্ত চলছে বলে খবর। সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হওয়া চুক্তির নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরো পড়ুন:  Alipurduar renaming sparks political uproar: আলিপুরদুয়ারের নাম পরিবর্তন ঘিরে উত্তাল রাজনীতি, যুব তৃণমূলের মশাল মিছিল

​বর্তমান যুগে রাজনীতি আর শুধুমাত্র জনসভা বা দেওয়াল লিখনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা এখন অনেকটাই কর্পোরেট রূপ নিয়েছে। এই ধরনের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থাগুলি মূলত তথ্য বা ডেটা বিশ্লেষণ, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং জনসংযোগের আধুনিক কৌশল নিয়ে কাজ করে থাকে। কলকাতা (Kolkata) থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে এদের শাখা কার্যালয় রয়েছে এবং প্রচুর তরুণ কর্মী এখানে কাজ করেন। এই পরিস্থিতিতে শীর্ষ কর্তাদের বারবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তলব স্বাভাবিকভাবেই সংস্থার অভ্যন্তরীণ কাজকর্মের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

​রাজনৈতিক মহলে এই তলব ঘিরে ইতিমধ্যেই তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই ইডির মতো তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যেহেতু এই সংস্থাটি বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলগুলির হয়ে কাজ করেছে, তাই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি তাঁদের। অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অন্য পক্ষের দাবি, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলছে এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার তদন্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই তদন্তের জল কতদূর গড়ায়।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments