অশোক সেনগুপ্ত
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনেউত্তর কলকাতা জোড়াসাঁকো অন্যতম আকর্ষণীয় কেন্দ্র। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হলেন বিজয় উপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আর এক বিজয়— বিজেপির বিজয় ওঝা। সিপিআই(এম)-এর প্রার্থী ভরত রাম তিওয়ারী। আরও অনেকের মধ্যে ওই কেন্দ্রের সম্ভ্রান্ত প্রার্থী বঙ্গসন্তান অংশুমান মিত্র এস ইউ সি আই (কমিউনিষ্ট) পার্টির প্রার্থী।
মূল পেশা?
—পেশায় চিকিৎসক; কমিউনিটি ফিজিশিয়ান ও ডিজাস্টার মেডিসিন চিকিৎসক;
নেশা?
স্বাস্থ্যের অধিকার, বিপর্যয় ও চিকিৎসাশাস্ত্রের অগ্রজদের ওপর লেখক; সমাজ পরিবর্তনের কর্মী
শিক্ষাগত যোগ্যতা?
—এম,বি,বি,এস (কলকাতা)
দৈনিক আনুমানিক রুটিন?
— প্রচার তো এখন তুঙ্গে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্তই বিভিন্ন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পার্টি কর্মীদের সাথে থেকে প্রচার, প্রার্থী পরিচিতি চলছে। ভর দুপুরের দাবদাহে দু-তিন ঘন্টা বিশ্রাম। তারপর বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পার্টি কর্মীদের সাথে থেকে ছোট ছোট গোষ্ঠী বৈঠক, না হলে অন্য কোন ওয়ার্ডে প্রার্থী পরিচিতি।
মূল সমস্যা?
— যেহেতু অত্যন্ত তড়িঘড়িতে নির্বাচন হচ্ছে, আর, ও-রা নির্বাচন কমিশনের নতুন নতুন ফতোয়া মুহূর্তে পাচ্ছেন, আমাদের তলব করেছেন, আচমকা এসে যাওয়া টেকনিক্যাল কাজও প্রচার কর্মসূচিকে অত্যন্ত বিপর্যস্ত করছে।
প্রচণ্ড গরমে খাওয়াদাওয়ার সতর্কতা কতটা নিচ্ছেন?
—এই গরমে খাওয়া-দাওয়া সতর্কতা নিতেই হবে। সকালে পেট ভরে পান করে বেরোনো দরকার। জল এবং ইলেকট্রোলাইট প্রচুর পরিমাণে নিতে হবে। তেল মশলা বিবর্জিত হালকা খাবার, গরমে তেঁতো, কাঁচা আম, দই খুবই সুস্বাদু ও সুস্থতা বজায় রাখে।
জিতলে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার?
—স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুস্থ এবং আবর্জনা মুক্ত পরিবেশ, কর্মসংস্থান এগুলি অধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা।
এ রাজ্যের স্বাস্থ্য-নীতির খামতি কোথায়?
— কর্পোরেট আমলা পরিচালিত স্বাস্থ্য ব্যবসার পরিবর্তে সরকার দ্বারা সকলের জন্য স্বাস্থ্য, অধিকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা দরকার। বর্তমান স্বাস্থ্য নীতি জনবিরোধী। মানুষের অসহায়তা- মৃত্যুকে পণ্য বানিয়ে স্বাস্থ্য-বীমা – ওষুধ কর্পোরেটের সর্বোচ্চ মুনাফা নিশ্চিত করছে। এগুলো হাসপাতাল সংক্রমণকে না রুখে কলকাতার হাসপাতালগুলিকে জতুগৃহ বানিয়েছে। মানুষ চিকিৎসা করতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। দেশের মধ্যে এই ভয়াবহ অবস্থা কলকাতায় সবচেয়ে সঙ্গীন। হাজার মানুষ প্রতি হাসপাতালের শয্যা-পরিকাঠামো সর্বনিম্ন। আমরা এর যথাযথ উন্নতি আমরা করতে চাইবো। মহল্লায় মহল্লায় আন্দোলনের পরীক্ষিত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী-রোগীদের দ্বারা নির্বাচিত গণস্বাস্থ্য কমিটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পরিচালনা করবে।
শিক্ষার হাল ফেরানোর ভাবনা কিভাবে?
— স্কুল-কলেজ বন্ধ করে, শিক্ষা পাঠ্যক্রম ও ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করার শিক্ষা নীতি কর্পোরেট শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলছে। এর পরিবর্তে দেশের শিক্ষাবিদদের দ্বারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রচিত পিপলস এডুকেশন পলিসি বাস্তবায়িত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল?
— রেনেসাঁর তীর্থস্থান এই কেন্দ্রে মদ- গুণ্ডাবাজি-বেলেল্লেপনা সংস্কৃতিকে প্রতিহত করে আমাদের দেশের উচ্চ সাংস্কৃতিক স্তরকে পুনরুদ্ধার করা আবশ্যিক।
নিত্য নাগরিক পরিষেবা?
—জঞ্জাল, জমা জল, বেআইনি পার্কিং মুক্ত এলাকা পুনরুদ্ধার করা আবশ্যিক।
আগে কোনও ভোটে প্রার্থী হয়েছেন?
—বিধানসভায় এই প্রথম প্রার্থী হলাম।
বাড়তি সুবিধা কী?
— দীর্ঘদিন জন্য এই এলাকায় বিভিন্ন বস্তি এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা, পোস্তা ব্রীজ ভেঙে পড়া, সূর্য সেন স্ট্রিট স্ট্রীট, বাগরি ও নন্দরাম মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুর্গতদের ত্রাণ চিকিৎসা ও মানসিক বিপর্যয় সহায়ক শিবির পরিচালনা করতে গিয়ে এই এলাকার বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক ও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নির্বাচনে আমার বাড়তি সহায়ক। গত কয়েক বছর যে লাগাতার গণ আন্দোলনে রাজ্য তোলপাড়, যেখানে এই কেন্দ্রের মা-বোনেরা ও সমস্ত নাগরিক হাজারে হাজারে নেমেছিলেন, সেখানে আমি লাগাতার তাদের সাথে ছিলাম।
আর অসুবিধা?
— ১) চূড়ান্ত অসাংবিধানিক পদক্ষেপের দ্বারা সাড়া রাজ্যের মত আমার কেন্দ্রেরও হাজার হাজার ভোটারকে ভোট দেওয়া থেকে নাম বাদ দিয়ে তারপর নির্বাচন কমিশন যেভাবে “free and fair election” এর আস্ফালন করছেন গণতন্ত্রের প্রতি একটি প্রহসন। ২) প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, আর ও নিয়োগ এবং নিয়মকানুন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এত বিশৃঙ্খলভাবে বদল হয়েছে, যে আমাদের দিক থেকে প্রশাসনিক কাজ সম্পন্ন করতে খুবই হয়রানি হয়েছে, অযথা সময় নষ্ট হয়েছে।৩) আবার “সুবিধা” এ্যপ দিয়ে যে বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা, বহু ক্ষেত্রেই বার বার করে বড় শাসক দলগুলিকে, বিশেষ করে বিজেপি-কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। শেষ মুহূর্তে আমাদের অনুমতি বাতিল করছে, অথচ দেখা যাচ্ছে তাদের কোন কর্মসূচি সেই স্থানে নেই। তাতে অযথা খরচ, সাধারণ মানুষ যারা আমাদের সাহায্য করেন তাদের অর্থ ব্যাপক অপচয়, এবং হয়রানি বাড়ছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এই কেন্দ্রে আপনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি, তৃণমূল না সিপিএম?
— সমস্ত শাসক দলের দুর্নীতি – ভ্রষ্টাচার – সাম্প্রদায়িকতা – জুলুমবাজি – জুমলা বাজির রাজনীতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের ভাষাকে বিধানসভার অলিন্দের মধ্যে নিয়ে যাওয়াটা আমার সংগ্রাম। তাই এই তিনটি, এবং কংগ্রেস, এই চার শাসক দলের বিরুদ্ধেই আমাদের লড়াই।
***


Recent Comments