“রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের নিয়ম মেনেই তৃণমূল কংগ্রেস আজ নিশ্চিত রাজনৈতিক অবলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ৪ জুনের ফলাফল পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন স্বচ্ছ রাজনীতির সূচনা করবে এবং মানুষের জয় সুনিশ্চিত হবে।” বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই দাবি করেন।
বিজেপি সল্টলেক কার্যালয়ে তিনি বলেন, প্রথম দফার মতই সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আজকের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং তৃণমূলের বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। পাহাড় থেকে সাগর—আজ মানুষের যে ঢল দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে বাংলার মানুষ ভয়মুক্ত হয়ে পরিবর্তনের লক্ষ্যে ভোট দিচ্ছেন। তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অপশাসন এবং রাজনৈতিক দাদাগিরির বিরুদ্ধে মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার হার প্রমাণ করে যে মানুষ আর এই ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছে না।
তিনি বলেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস বাঙালির চিরাচরিত রবীন্দ্র-নজরুল সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে বিভাজনের সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, “বাঙালি আজ তার হারানো সম্মান ফিরে পেতে এবং বাংলার প্রকৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতি রক্ষায় ভোট দিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং রক্তপাতহীন করার দায়িত্ব কমিশনের। কেন্দ্রীয় বাহিনী সেই কাজই করছে। মুখ্যমন্ত্রী সকাল সাতটা থেকে রাস্তায় নামতে বাধ্য হচ্ছেন, এটাই বিজেপির নৈতিক জয়। খেলা যে শেষ হয়ে গেছে, তা উনি বুঝে গেছেন।”
শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর চাকরি চুরি এবং ল্যান্ড জিহাদ বা অনুপ্রবেশের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সরব হন রাজ্য সভাপতি। তিনি স্পষ্ট জানান, “এই ভোট অস্তিত্ব রক্ষার ভোট। ২৬,০০০ চাকরি চলে যাওয়া এবং ৪ শতাংশ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ আজ ইভিএমে জবাব দিয়েছেন।”


Recent Comments