রাজ্য রাজনীতিতে এখন টানটান উত্তেজনা। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজই কি নির্ধারিত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্যের পরবর্তী কান্ডারি কে হবেন? আজ সকালে কলকাতা (Kolkata) বিমানবন্দরে পা রেখেই সোজা পুজো দিতে চলে যান দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান বিজেপি (BJP) নেতা অমিত শাহ (Amit Shah)।
তাঁর এই ঝটিকা সফর ঘিরেই এখন রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে।বিমানবন্দর থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে শাহ সোজা পৌঁছে যান ঐতিহাসিক দক্ষিণেশ্বর (Dakshineswar) কালী মন্দিরে। সেখানে ভবতারিণী মায়ের চরণে বিশেষ পুজো দেন তিনি। মন্দির চত্বরে আজ সকাল থেকেই ছিল নজিরবিহীন পুলিশি প্রহরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা গোটা এলাকা নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছিলেন। তবে এর মধ্যেও উৎসাহী জনতার ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। মন্দির সূত্রে খবর, প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে এই পুজো পর্ব।
মন্ত্রোচ্চারণ ও আরতির মাধ্যমে দেশ তথা ভারত (India) এবং রাজ্যের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন তিনি। পুজো শেষে মন্দির চত্বরে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তেও দেখা যায় তাঁকে। তবে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি তিনি।
শুধুমাত্র হাসিমুখে জানিয়েছেন, “মায়ের আশীর্বাদ নিতে এসেছি, বাংলার মানুষের জন্য প্রার্থনা করলাম।”তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের আসল উদ্দেশ্য নিছক তীর্থদর্শন নয়, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপ।বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই দলের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়ে একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম ভাসছে। হাওড়া (Howrah), হুগলি (Hooghly) থেকে শুরু করে একেবারে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও (District) দলের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে এই নিয়ে তুমুল চর্চা চলছে।
দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব চাইছে এমন কাউকে এই গুরুদায়িত্ব দিতে, যিনি একইসঙ্গে দক্ষ প্রশাসক এবং দলের নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় জনসংযোগ বজায় রাখতে সক্ষম। কেউ বলছেন অভিজ্ঞ কোনো প্রবীণ নেতার কাঁধেই উঠবে দায়িত্ব, আবার কারও মতে সম্পূর্ণ নতুন কোনো তরুণ মুখকে সামনে এনে বড়সড় চমক দিতে পারে নেতৃত্ব। অমিত শাহের এই উপস্থিতিতে আজ সেই সমস্ত জল্পনার চিরতরে অবসান ঘটতে চলেছে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
দলীয় সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বিধায়কদের কাছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিশেষ বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। বিকেলের এই বৈঠকে বিধায়কদের ব্যক্তিগত মতামতও মন দিয়ে শোনা হবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হাতেই। শাহের সঙ্গে এই সফরে রয়েছেন দলের আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় নেতা ও পর্যবেক্ষক।
তাঁরাও গতকাল রাত থেকে দফায় দফায় রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ম্যারাথন আলোচনা চালাচ্ছেন।আজ সন্ধ্যার মধ্যেই কি তবে বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে দলের এক শীর্ষস্থানীয় রাজ্য নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজস্কোপ বাংলার প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, “সবটাই নির্ভর করছে আজকের বিকেলের বৈঠকের উপর। অমিতজি নিজে সকলের সঙ্গে কথা বলবেন, পরিস্থিতি বিচার করবেন। তবে আজ সন্ধ্যার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।”


Recent Comments