দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপড়োন ও জল্পনার অবসান। শুরু হতে চলেছে নতুন অধ্যায়।২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শুভেন্দু অধিকারী। দলের পরিষদীয় বৈঠকে সবার সম্মতিতেই পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীরকে নির্বাচন করা হয়েছে। এই প্রথম বাংলার ইতিহাসে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সিংহাসনে বসতে চলেছে কোনো বিজেপি দলনেতা।
রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাব এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বকে সম্মান জানিয়েই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছে। পরিষদীয় দলের বৈঠকে, নবনির্বাচিত বিধায়কদের উপস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারীর নাম প্রস্তাব করা হলে তাতে সকলেই সমর্থন জানান।শনিবার কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন সরকারের জন্য শপথ গ্রহণ করা হবে।
বিধায়ক দলের বৈঠকের শেষে অমিত শাহ বলেন ” পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।আটটি প্রস্তাব এসেছিল। সব প্রস্তাবে একটিই নাম ছিল। দ্বিতীয় নামের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও দ্বিতীয় নাম আসেনি। তাই শুভেন্দু অধিকারীকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করছি।’’
প্রত্যেকবার যে কোন রাজ্যে নির্বাচনের শেষে বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ওই রাজ্যে পাঠানো হয়। এইবার কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের মধ্যে পাঠানো হয়েছিল অমিত শাহ কে এবং তাঁর সঙ্গে সহকারী পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ওড়িষ্যার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝিকে। শুক্রবার ৮ ই মে বিকেলে নিউ টাউন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে নতুন নির্বাচিত হওয়া বিধায়ক সহ অমিত সাহ ও মোহন চরণ মাঝিকে নিয়ে এই বৈঠক হয়। অমিত শাহের মতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মভূমিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ অনুযায়ী সরকার তৈরি হয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়ান এবং ১৯৫৬ ভোটে জয়ী হন। এবার আবার ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর এই দুটি কেন্দ্র থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়িয়েছেন এবং ভবানীপুরের মমতাকে তিনি ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর আসন নিয়ে সমালোচনা থাকলেও শুভেন্দু অধিকারী যে মুখ্যমন্ত্রী হবেন সে নিয়ে কোন সংশয় ছিল না পদ্ম শিবিরে ।সব মিলিয়ে, বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এই ঘটনাকে এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


Recent Comments