“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির”— বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সেই চিরন্তন বাণীকেই হৃদয়ে ধারণ করে শনিবার মালদা জেলা জুড়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহের মধ্য দিয়ে পালিত হল তাঁর ১৬৬তম জন্মজয়ন্তী।
সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রবীন্দ্রস্মরণে আয়োজন করা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবিতা পাঠ, সংগীত পরিবেশন ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের অনুষ্ঠান।প্রতি বছরের মতো এবারও মালদা শহরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে রবীন্দ্রজয়ন্তী উদযাপনের উদ্যোগ নেয় ইংরেজবাজার পৌরসভা। মালদা শিল্পী সংসদের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই শহরের সাংস্কৃতিক মহলের মানুষজন, শিল্পী ও সাধারণ মানুষের ভিড় চোখে পড়ে। মালদা কলেজ গেট সংলগ্ন রবীন্দ্রমূর্তির পাদদেশ যেন এদিন এক অন্য আবহ তৈরি করে।
এদিন সকালে রবীন্দ্রমূর্তিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে বিশ্বকবিকে শ্রদ্ধা জানান ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী কাউন্সিলর শুভময় বসু, মালদা শিল্পী সংসদের সভাপতি ডি সরকার, সম্পাদক মলয় সাহা সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বহু সাংস্কৃতিক কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও রবীন্দ্রপ্রেমী মানুষ।শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের পর শুরু হয় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একের পর এক রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। “আগুনের পরশমণি”, “আমার হিয়ার মাঝে” থেকে শুরু করে একাধিক জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। পাশাপাশি রবীন্দ্রনৃত্য ও কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে শিল্পীরা তুলে ধরেন বিশ্বকবির সৃষ্টির নানা দিক। ছোট ছোট পড়ুয়ারাও আবৃত্তি ও নৃত্যে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানে আলাদা মাত্রা যোগ করে।মালদা শিল্পী সংসদের সদস্যদের বক্তব্য, বর্তমান প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রনাথকে নতুন করে তুলে ধরাই এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংগীতের সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি করে যুক্ত করতে প্রতি বছরই তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়ে থাকেন।অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ শুধুমাত্র একজন কবি নন, তিনি বাঙালির আবেগ, সংস্কৃতি ও চেতনার প্রতীক। তাঁর সাহিত্য, গান ও দর্শন আজও সমাজকে পথ দেখায়। তাই সময় যতই এগিয়ে যাক, রবীন্দ্রচর্চার গুরুত্ব কখনও কমবে না।
দিনভর নাচ, গান, কবিতা ও স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে মালদা শহর যেন ডুবে ছিল রবীন্দ্রচেতনায়। বিশ্বকবির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শহরের সাংস্কৃতিক পরিবেশ আরও একবার প্রাণ ফিরে পেল বলেই মনে করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা।

Recent Comments