কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের সামনে জমায়েতের পর সোমবার বিকেলে ধর্মতলার উদ্দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতির (এপিডিআর) একটি মিছিল বার হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিৎ শূর দাবি করেন, ১) পশ্চিমবাংলার জেলে আটক সমস্ত রাজনৈতিক বন্দির নিঃশর্ত মুক্তি চাই। জামিনে মুক্ত রাজনৈতিক বন্দিদের সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
২) মোফারেকুল ইসলাম ও আক্রামুল বাগানি সহ SIR বিরোধী আন্দোলনে জেলবন্দি সকল প্রতিবাদীকে মুক্তি দিতে হবে।
৩) SIR বাতিল করে SIR এ বাদ যাওয়া সকল সহ নাগরিকের নাম অবিলম্বে ভোটার তালিকায় তুলতে হবে।
৪) রাজ্যজুড়ে নির্বাচন পরবর্তী হিংসা বন্ধ করতে হবে।
রঞ্জিতবাবুর দাবি, সালে জ্যোতি বসু সরকারের মন্ত্রী সভার প্রথম বৈঠকে আলোচ্য ছিল রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এপিডিআর এবং জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের পরে তৈরি বন্দিমুক্তি ও গণদাবি কমিটির তাতে একটা ভূমিকা ছিল। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছিল ক্যাবিনেটের সেই প্রথম মিটিংয়েই।
২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মন্ত্রী সভার প্রথম বৈঠকেও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি আলোচ্য ছিল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথের আগে এপিডিআর কলকাতায় মিছিল করে মহাকরণে দাবীপত্র পেশ করে যাতে প্রথম বৈঠকে রাজনৈতিক বন্দি মুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুক্তি নয় বন্দি মুক্তি নিয়ে ‘রিভিউ কমিটি’ তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং।
এই ইতিহাস মাথায় রেখেই এপিডিআর ৯ মে তারিখে নতুন সরকারের শপথের দিনই মিছিল করে রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দাবি সনদ পেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
কিন্তু নতুন সরকারের শপথের অনুষ্ঠান বিগ্রেডে করার এবং সেই উপলক্ষে সারা ভারতের সমস্ত ভিআইপি দের ডেকে বিরাট জনসমাবেশ ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় কলকাতায় সেদিন অন্য কারও মিছিল করার মতো পরিবেশ বা পরিস্থিতি ছিল না। তাই এপিডিআর ৯মে তারিখের বদলে ১১ মে মিছিলটি করল।


Recent Comments