রায়গঞ্জের বিধানমঞ্চে যেন নেমে এসেছিল এক অন্যরকম সাংস্কৃতিক আবহ। নৃত্য, সঙ্গীত, কবিতা ও আবৃত্তির মেলবন্ধনে প্রাণবন্ত হয়ে উঠল ‘নৃত্যম নৃত্যকেন্দ্র’-এর চতুর্থ বর্ষপূর্তি উদ্যাপন। শিল্পের প্রতি নিষ্ঠা, সাধনা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য প্রকাশ ঘটল এই বিশেষ আয়োজনে।
নৃত্যম নৃত্যকেন্দ্রের কর্ণধার ও বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী কোয়েল গোস্বামীর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয় খুদে শিল্পী থেকে শুরু করে প্রবীণ শিল্পীরাও। প্রত্যেকের পরিবেশনায় ফুটে ওঠে দীর্ঘ অনুশীলন, আত্মবিশ্বাস ও শিল্পের প্রতি গভীর ভালোবাসা। মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশনার পাশাপাশি গান, কবিতা ও আবৃত্তিও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল এক স্নিগ্ধ, মননশীল ও প্রশান্ত পরিবেশ।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পীর হাতে ট্রফি ও শংসাপত্র তুলে দিয়ে তাঁদের উৎসাহিত করা হয়। আয়োজকদের মতে, এই সম্মাননা আগামী দিনে শিল্পচর্চার প্রতি আরও আগ্রহ বাড়াবে।
এই সাংস্কৃতিক যাত্রার মূল প্রেরণা কোয়েল গোস্বামী। তাঁর কাছে নাচ শুধুমাত্র একটি শিল্প নয়, বরং আত্মার সাধনা। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, নিরলস পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে তিনি আজ রায়গঞ্জের সাংস্কৃতিক পরিসরে একটি বিশেষ পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি স্মরণ করেন তাঁর প্রথম দিকের শিক্ষিকা শ্রাবণী দত্ত ও শর্মিষ্ঠা ম্যামকে। তাঁদের কাছ থেকেই নৃত্যের প্রতি ভালোবাসা ও শৃঙ্খলার শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান কোয়েল। তিনি বলেন,
“গুরুজনদের আশীর্বাদ, তাঁদের শেখানো শৃঙ্খলা এবং প্রতিদিনের সাধনাই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দেয়।”
কোয়েলের বিশ্বাস, নৃত্য কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি এমন এক শিল্পচর্চা, যা মানুষকে মানসিকভাবে সমৃদ্ধ করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। তাঁর এই একাগ্রতা ও নিষ্ঠা ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছে।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক মহলের মত, কোয়েল গোস্বামীর এই প্রচেষ্টা আগামী দিনে রায়গঞ্জের সাংস্কৃতিক জগতকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্পচর্চার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা ও আন্তরিক সাধনাই যে একদিন মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেয়, সেই বার্তাই যেন আবারও তুলে ধরল ‘নৃত্যম’-এর এই বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান।

Recent Comments