পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার এলাকায় এক চরম রাজনৈতিক উত্তেজনার ঘটনা সামনে এসেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পরিকল্পিতভাবে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (কারেন্ট অফ) করে তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন মহিলা গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজেপির স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার সময় একটি দলীয় কর্মসূচির প্রস্তুতি বা বৈঠক চলাকালীন হঠাৎ করেই পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকার নেমে আসার সুযোগ নিয়ে একদল দুষ্কৃতী লাঠিসোঁটা, রড এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
আক্রান্তদের অভিযোগ, হামলাকারীরা বেছে বেছে বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ও জমায়েত লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অন্ধকারে আত্মরক্ষার সুযোগ না পেয়ে বেশ কয়েকজন সাধারণ কর্মী এবং বিশেষ করে মহিলারা গুরুতরভাবে জখম হন। আহত মহিলাদের মাথা ও শরীরে বিভিন্ন অংশে আঘাত লেগেছে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ
বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, এই ঘটনার পেছনে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই ইচ্ছাকৃতভাবে লোডশেডিং বা কারেন্ট অফ করিয়ে এই নৃশংস হামলা চালিয়েছে, যাতে হামলাকারীদের চেনা না যায়। এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করতেই মহিলাদের ওপর এই ধরনের রক্তাক্ত হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের দাবি।
শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের পাল্টা দাবি, এর সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল বা স্থানীয় কোনো ব্যক্তিগত বিবাদের ফল হতে পারে। রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই তৃণমূলের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারের সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে এবং এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। আহতদের চিকিৎসার ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, সেদিকে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।


Recent Comments