নিজস্ব সংবাদদাতা: কফিশপ সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার মাঝে তরুণ প্রজন্মের এক বড় অংশ চায়ের বদলে কফির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব চা দিবস উপলক্ষে জলপাইগুড়ির একটি বেসরকারি ম্যানেজমেন্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে উঠে এল সেই চিত্রই।
জলপাইগুড়ি ক্ষুদ্র চা-চাষি সমিতির উদ্যোগে এবং টি-বোর্ডের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত ‘টি ফর ইউথ’ ও ‘ক্যাম্পাস টু কাপ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন ছাত্রছাত্রী, চা বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পের প্রতিনিধিরা। তরুণদের মধ্যে চা সম্পর্কে আগ্রহ বাড়াতে আয়োজন করা হয় কুইজ প্রতিযোগিতা, টি-টেস্টিং এবং আলোচনা সভার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত টি-বোর্ডের প্রতিনিধি নিপুণ বর্মন এবং চা বিশেষজ্ঞ জীবনচন্দ্র পান্ডে জানান, বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সী যুবসমাজের একটি বড় অংশ এখন চায়ের তুলনায় কফিকেই বেশি পছন্দ করছে। তাঁদের মতে, আধুনিক ক্যাফে সংস্কৃতি, নানা স্বাদের কফি এবং আকর্ষণীয় উপস্থাপনাই এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।
উত্তরবঙ্গের বিশিষ্ট চা গবেষক ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা-চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, দেশের প্রায় ৩৪ শতাংশ যুবক-যুবতী এই বয়সসীমার মধ্যে পড়ে। তাই তাদের চা-পানের অভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তাঁর দাবি, চা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পানীয় এবং গ্রিন টি বা ব্ল্যাক টি-র মতো স্বাস্থ্যকর বিকল্প খুব কমই রয়েছে। নিয়মিত চা-পান স্বাস্থ্যরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক চা দিবস উপলক্ষে মালবাজারে আয়োজিত ‘চায়ে পে চর্চা’ অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিজেপি বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা। তিনি বলেন, চা-বাগানকে ঘিরে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। একসময় বহু মানুষ সরকারি চাকরির পরিবর্তে চা-বাগানে কাজ করাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতেন। সেই গৌরব ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে চা শিল্পকে নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের মতে, বিবাহিত ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে চায়ের জনপ্রিয়তা এখনও বজায় থাকলেও ‘জেন জি’-র মধ্যে কফির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তাই নতুন প্রজন্মকে চায়ের প্রতি আকৃষ্ট করতে আগামী দিনে দেশজুড়ে আরও বেশি প্রচার, সচেতনতা কর্মসূচি এবং স্বাদ-ভিত্তিক উদ্ভাবনের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
চা শুধুই একটি পানীয় নয়, বরং ভারতের অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং উত্তরবঙ্গের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই কফির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার মধ্যেও চায়ের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এখন থেকেই সক্রিয় উদ্যোগ শুরু করেছে চা শিল্প।

Recent Comments