রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরু করল কিশোরীদের জন্য এইচপিভি (হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) টিকাকরণ অভিযান। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই বিশেষ কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এই উদ্যোগকে জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধের জন্যে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশের অন্যান্য রাজ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু হলেও, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণে তা কিছু সময়ের জন্য স্থগিত ছিল। সেই বিরতি কাটিয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর এবার দ্রুততার সাথে কাজ শুরু করেছে।
কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
উপভোক্তা: মূলত যে সকল কিশোরীর বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হয়েছে কিন্তু ১৫ বছর এখনো হয়নি, তারাই এই টিকার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।
লক্ষ্যমাত্রা: রাজ্যে এই বয়সসীমার প্রায় ৭.৫ লক্ষ কিশোরীকে সুরক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রস্তুতি ও জোগান: কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে গেছে। টিকাকরণ সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের সংখ্যা: রাজ্যের ২০০টিরও বেশি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে—যার মধ্যে মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে ব্লক ও মহকুমা হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত—বিনামূল্যে টিকা দেওয়া হচ্ছে।
কার্যপদ্ধতি: টিকাকরণের কাজে বিদ্যালয়গুলোকে যুক্ত করে একটি বিশেষ মাইক্রো-প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই টিকাকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু ক্যানসার দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচলিত ক্যানসার। প্রায় ৯৯.৭ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ক্যানসারের নেপথ্যে এইচপিভি ভাইরাসের সংক্রমণ দায়ী থাকে। এই ভাইরাস যেহেতু যৌন সংসর্গের মাধ্যমে ছড়ায়, তাই কিশোরীরা যৌনসক্রিয় হওয়ার আগেই এই টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমানে ‘গার্ডাসিল-৪’ নামক কোয়াড্রাইভ্যালেন্ট টিকা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা এইচপিভির ৬, ১১, ১৬ এবং ১৮ নম্বর স্ট্রেনের বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে।


Recent Comments