৫ জুন, ২০২৬:
রাজ্যের সরকারি এবং সরকার-পোষিত স্কুলের শিক্ষকরা কোনোভাবেই আর প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং করাতে পারবেন না। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনতে এবং পঠনপাঠনের মান উন্নত করতে এবার কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্যের নবগঠিত শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্ট জানানো হয়েছে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে।
নির্দেশিকায় উল্লিখিত বিস্তারিত গুলি হলো
সরকারি বেতনভোগী কোনো শিক্ষক বা শিক্ষিকা স্কুলের বাইরে অর্থের বিনিময়ে কোনো ছাত্রছাত্রীকে পড়াতে পারবেন না। নিজের বাড়িতে, অন্য কোনো স্থানে বা কোনো বেসরকারি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত থাকা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: এই নির্দেশিকা অমান্য করার প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে ইনক্রিমেন্ট (বেতন বৃদ্ধি) আটকে দেওয়া, বদলি, সাসপেনশন এবং অত্যন্ত গুরুতর ক্ষেত্রে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার মতো শাস্তির সংস্থান রাখা হয়েছে।
রাজ্যজুড়ে এই নির্দেশিকা সঠিকভাবে পালিত হচ্ছে কি না, তা দেখার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (DI)। প্রয়োজনে ব্লক স্তরে বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম বা নজরদারি দল গঠন করে আচমকা পরিদর্শন করা হবে।
নিয়ম ভাঙলে অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী বা সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি শিক্ষা দপ্তরে অভিযোগ জানাতে পারেন, তার জন্য একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল বা হেল্পলাইন নম্বর চালু করার কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীর নাম গোপন রাখা হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের কারণ হলো –
প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি শিক্ষকরা নির্দিষ্ট বেতন পান এবং স্কুলে সময়মতো ও সঠিকভাবে পড়ানোই তাঁদের প্রধান কর্তব্য। কিন্তু অভিযোগ উঠছিল যে, কিছু শিক্ষক স্কুলের চেয়ে প্রাইভেট টিউশনে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, যার ফলে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সরকারি স্কুলগুলিতে শিক্ষার সার্বিক পরিকাঠামো ও গুণগত মান ফেরাতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শক এবং প্রধান শিক্ষকদের কাছে সরকারি নির্দেশনামা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।


Recent Comments