শনিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। মূলত রাজ্যের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা রেল প্রকল্প, জমি সমস্যা এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, সেখানে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বাড়িয়ে দিয়েছে জল্পনা।
নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল রাজ্যের ৬১টি থমকে থাকা রেল প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথ খোঁজা। পাশাপাশি প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল ও পরিকাঠামো বিনিয়োগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে উঠে আসে নতুন রেললাইন, ডবলিং প্রকল্প, স্টেশন আধুনিকীকরণ এবং কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক রথীন ঘোষ এবং বাগনানের বিধায়ক অরুণাভ সেন। প্রশাসনিক বৈঠকে শাসকদলের বিধায়কদের উপস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুললেও, তৃণমূলের দাবি— এর সঙ্গে রাজনৈতিক কোনও সমীকরণ জড়িত নয়। এলাকার উন্নয়ন, যাত্রী সুবিধা বৃদ্ধি এবং রেল সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।
রথীন ঘোষ জানান, তাঁর এলাকার দীর্ঘদিনের রেল সমস্যাগুলি তুলে ধরতেই তিনি বৈঠকে অংশ নেন। অন্যদিকে অরুণাভ সেন স্পষ্ট করে বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে আলোচনা করতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। শাসকদলের বক্তব্য, মানুষের স্বার্থে প্রশাসনিক মঞ্চে উপস্থিত হওয়াকে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বৈঠক শেষে রাজ্যের রেল পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করা হয়। জানা গিয়েছে, বাংলায় ১০২টি ‘অমৃত ভারত’ স্টেশন তৈরি হবে। পাশাপাশি কলকাতা মেট্রোর জন্য আনা হবে ৬০টি নতুন ট্রেন। দীর্ঘদিন জমি জট বা প্রশাসনিক সমস্যায় আটকে থাকা একাধিক প্রকল্প দ্রুত শুরু করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকগুলিতে তৃণমূল নেতাদের ধারাবাহিক উপস্থিতি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেরও ইঙ্গিত হতে পারে। এর আগেও কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে বহু তৃণমূল বিধায়ককে দেখা গিয়েছিল। যদিও শাসক শিবির এই জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে বলছে, উন্নয়ন এবং জনস্বার্থই এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।
সব মিলিয়ে, নবান্নের এই বৈঠক শুধু প্রশাসনিক বৈঠক হিসেবেই নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক ও পরিকাঠামোগত ভবিষ্যতের দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।


Recent Comments