রাজ্য রাজনীতিতে এখন উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দু উত্তরবঙ্গ। আর সেই আবহেই শিলিগুড়িতে (Siliguri) পা রেখে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের বিরুদ্ধে রীতিমতো সুর চড়ালেন রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পরেই তিনি সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং উন্নয়নমূলক কাজে গাফিলতির অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানান।
রবিবার দুপুরে শিলিগুড়িতে পৌঁছে মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তৃণমূল নেতারা তোলাবাজি ও লুঠপাটে মত্ত । তাদের অপকর্মের ফলেই মানুষ আজ তাদের বিরুদ্ধে এমন স্লোগান তুলছে । জনতা তাদের প্রকৃত চরিত্র চিহ্নিত করে নিয়েছে ।”
তিনি জানান, আগের সরকারের আমলে সরকারি দপ্তরে যে নিয়োগ দুর্নীতি হয়েছে, তার প্রতিটি ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে বর্তমান প্রশাসন। যোগ্য প্রার্থীদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য।এদিন মাদ্রাসা শিক্ষার পরিকাঠামো নিয়েও সরব হন অগ্নিমিত্রা।
তিনি জানান, সরকার মাদ্রাসাগুলোতে প্রায় ৫,৭১৩ কোটি টাকা অনুদানের কথা ঘোষণা করলেও, সেই অর্থের প্রকৃত সুফল ছাত্রছাত্রীরা কতটা পাচ্ছেন, তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, ধর্মীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। কাউকে ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করা অনৈতিক বলে তিনি মন্তব্য করেন।উত্তরবঙ্গের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সমালোচনায় সরব হন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত সরকার কেবল উৎসব নিয়ে ব্যস্ত ছিল, উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেনি। অথচ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই চিংড়িঘাটার (Chingrighata) মতো দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে।পাহাড় ও সমতলের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে বলতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, তিনি বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছেন। বন্যায় কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি যাতে না হয়, তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মহিলাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়াই তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্য।
দার্জিলিং (Darjeeling), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) ও মিরিকের (Mirik) মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো তিনি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, পাহাড়কে আর কোনোভাবেই অবহেলার চোখে দেখা হবে না।
দলত্যাগ এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি কিছুটা কটাক্ষের সুরেই বলেন “যাদের কোনও সুনির্দিষ্ট আদর্শ নেই, সেই দল যে দ্রুত টুকরো টুকরো হবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল । এতে আমাদের কাছে কোনও গুরুত্ব নেই ।”
বিএসএফ (BSF)-এর জমি সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়েও তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারের অসহযোগিতামূলক মনোভাবকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, উন্নয়নের প্রয়োজনে সরকারি সমন্বয় ও সহযোগিতা একান্তই প্রয়োজন, যা বর্তমান রাজ্য সরকার শুরু থেকেই বাধাগ্রস্ত করেছে।পরিশেষে, রাজ্যের মানুষের স্বার্থে দুর্নীতিমুক্ত এক স্বচ্ছ প্রশাসন গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের পরম লক্ষ্য বলে এদিন সাফ জানিয়ে দেন অগ্নিমিত্রা পাল।


Recent Comments