রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র তলব ফের একবার এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) শীর্ষ নেতা তথা সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একটি নির্দিষ্ট মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চলতি সপ্তাহেই তাঁকে কলকাতার ভবানী ভবনে (Bhabani Bhawan) হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য গোয়েন্দা দফতর। কিন্তু পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততা এবং আইনি পরামর্শের কারণ দেখিয়ে তিনি এদিনের হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন।
তৃণমূল সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সিআইডি-র সদর দফতরে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মসূচির কারণে তিনি অত্যন্ত ব্যস্ত রয়েছেন। তাই নির্দিষ্ট দিনে তাঁর পক্ষে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য তিনি অন্য কোনো সুবিধাজনক দিন চেয়েছেন।
কেন এই তলব?
নির্দিষ্ট একটি মামলাকে কেন্দ্র করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠিয়েছিল ভবানী ভবন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন মামলার তদন্তে তাঁকে এই তলব করা হয়েছে, তা নিয়ে সিআইডি-র উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলতে চাননি। রাজ্য গোয়েন্দা দফতর বিষয়টিকে অত্যন্ত গোপনীয় এবং তদন্তের স্বার্থে স্পর্শকাতর বলেই উল্লেখ করেছে। যদিও রাজনৈতিক মহলে এই তলব এবং তাঁর অনুপস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা ও চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততাই কি মূল কারণ?
সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক রদবদল এবং দলের অভ্যন্তরীণ একাধিক মেগা বৈঠক নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই মুহূর্তে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন। নবগঠিত রণকৌশল এবং আগামী দিনের জনসংযোগ কর্মসূচির রূপরেখা তৈরি করতে প্রায় প্রতিদিনই ক্যামাক স্ট্রিটের (Camac Street) অফিসে একের পর এক বৈঠক সারছেন তিনি। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের ব্যস্ত সূচির কারণেই তাঁর পক্ষে হুট করে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ খোঁজা অর্থহীন।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী সিআইডি-র?
তদন্তকারী আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি এবং তাঁর আইনজীবীদের আবেদন খতিয়ে দেখছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। আইন অনুযায়ী, প্রথম বা দ্বিতীয়বার হাজিরা না দিলে সাধারণত গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে পুনরায় নতুন দিন ধার্য করে নতুন করে সমন পাঠানো হয়।
ভবানী ভবন সূত্রে ইঙ্গিত, মামলার গুরুত্ব বিচার করে দ্রুতই হয়তো তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে আবারও নোটিশ পাঠানো হতে পারে। আপাতত রাজ্য রাজনীতিতে এই সিআইডি তলব এবং অভিষেকের হাজিরা এড়ানোকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে তরজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।


Recent Comments