রাজারহাট-গোপালপুরে রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেল প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়িকা অদিতি মুন্সির পুরনো কার্যালয়কে কেন্দ্র করে। বৃহস্পতিবার বাগুইআটির ৪৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একাধিক তৃণমূল কার্যালয়ের তালা খুলে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী, সাদা থান এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারির নেতৃত্বে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা কয়েকটি পুরনো দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে অনুসন্ধান চালান। অভিযোগ, প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সির ব্যবহৃত একটি অফিস থেকে বিপুল পরিমাণ সাদা থান, ত্রিপল, বালতি, শাড়ি, ছাতা-সহ বিভিন্ন সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ এই সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে বিতরণ না করে গুদামজাত করে রাখা হয়েছিল।
বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন দেবরাজ চক্রবর্তী-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিধাননগর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইন্দ্রনাথ বাগুইয়ের কার্যালয় থেকেও ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ ওঠে। সেখানে কয়েকটি ধারালো অস্ত্রের পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রীও পাওয়া গেছে বলে দাবি বিজেপির।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি অভিযোগ করেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মজুত করে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের কর্মীদের উপর হামলা চালানোর জন্যই এগুলি রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সরকারি ত্রাণসামগ্রী দলীয় স্বার্থে আটকে রাখা হয়েছিল।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুত করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত উৎস, সেগুলি কীভাবে ওই কার্যালয়গুলিতে পৌঁছাল এবং অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ দলীয় কাজে ব্যবহার করা হত এবং সেই কারণেই ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে অফিসে মজুত ছিল। তবে অভিযোগের বিষয়ে প্রাক্তন বিধায়িকা অদিতি মুন্সি বা তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের তরফে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তদন্তের অগ্রগতির উপরই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর প্রকৃত পরিচয় এবং অস্ত্র উদ্ধারের দাবির সত্যতা সামনে এলে গোটা ঘটনার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


Recent Comments