বাড়ির কাছেই বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা। কলকাতার হেল্থ কেয়ার গ্লোবাল (এইচসিজি ক্যানসার হাসপাতাল) বিশেষজ্ঞদের দিয়ে আগরতলায় একটি মাসিক বহির্বিভাগ (ওপিডি) পরিষেবা চালু করেছে। এটির মাধ্যমে ত্রিপুরা ও সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারতের রোগীরা এখন নিজেদের রাজ্যের কাছাকাছি থেকেই বিশেষজ্ঞ ক্যানসার পরামর্শ পাবেন।
কলকাতাস্থ এই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা প্রতি মাসে আগরতলায় যাবেন। তাঁরা রোগীদের পরীক্ষা করে রিপোর্ট পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেবেন। স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসার পরিকল্পনাও করবেন। এই ওপিডির মূল উদ্দেশ্য হলো ক্যানসার চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে রোগীদের রাজ্যের বাইরে যাতায়াতের প্রয়োজন কমিয়ে আনা।
সূত্রের খবর, ত্রিপুরায় প্রতি বছর প্রায় ৪,০০০ নতুন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হন। তবে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে তৃতীয় স্তরের (টারশিয়ারি) অনকোলজি অবকাঠামো। এই
সীমাবদ্ধতার ফলে রোগীরা রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পরিকল্পনা এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রেও উদ্বেগের কারণ রয়েছে। NCDIR-এর তথ্য অনুযায়ী, ত্রিপুরায় ৩০–৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের মধ্যে মাত্র ০.৪ শতাংশ স্তন পরীক্ষা করান এবং একই বয়সী পুরুষদের মধ্যে মাত্র ০.২ শতাংশ মুখগহ্বরের ক্যানসার স্ক্রিনিং করিয়েছেন—যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম।
কলকাতার HCG ক্যানসার হাসপাতালের হেমাটোলজি ও বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট (BMT) বিভাগের বিশেষজ্ঞ– চিকিৎসক ডা. অরিজিৎ বিষ্ণু বলেন, “ক্যানসার চিকিৎসার জন্য সময়মতো রোগ নির্ণয়, সঠিক স্টেজিং এবং বহুবিভাগীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ওপিডির মাধ্যমে HCG কলকাতার বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত আগরতলায় আসবেন। আমরা স্থানীয় চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করব। এতে রোগীরা যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন। সম্ভব হলে তাঁদের চিকিৎসা ও ফলো-আপ বাড়ির কাছেই সম্পন্ন করা যায়।”
HCG ক্যানসার হাসপাতালের অন্যতম আধিকারিক ডা. রূপালি বসু বলেন, “বিশেষায়িত ক্যানসার চিকিৎসা মানুষের আরও কাছাকাছি পৌঁছানো উচিত। পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে আমাদের সম্প্রসারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই ওপিডি ত্রিপুরার রোগীদের জন্য আরও সহজলভ্য, সমন্বিত এবং বহুমাত্রিক ক্যানসার চিকিৎসা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
তিনি জানান, কলকাতার HCG ক্যানসার হাসপাতাল বর্তমানে আগরতলার অটল বিহারি বাজপেয়ী আঞ্চলিক ক্যানসার কেন্দ্রের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করছে। চুক্তিটি কার্যকর হলে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ ক্লিনিক্যাল সমন্বয় গড়ে উঠবে। এতে উন্নত চিকিৎসার জন্য HCG কলকাতায় আসা যোগ্য ত্রিপুরাবাসীরা ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধাও পেতে পারেন।


Recent Comments