আরজি কর হাসপাতালে চিকিৎসক ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নতুন করে তৎপরতা বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। গত সপ্তাহে আরজি কর হাসপাতালে সরেজমিনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর, এবার সিবিআইয়ের তরফে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) সোজা পৌঁছে গেল উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি শ্মশানে, যেখানে ওই নির্যাতিতা চিকিৎসকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর আরজি কর কাণ্ডের থমকে যাওয়া তদন্তে ফের মারাত্মক গতি এল।
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে সিবিআইয়ের এক জয়েন্ট ডিরেক্টর পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নেতৃত্বে এবং এক ডিআইজি (DIG)-সহ মোট ৬ জনের একটি বিশেষ দল পানিহাটি শ্মশানের অফিসে এই অতর্কিত অভিযান চালায়।
দাহ করার নেপথ্যে কী তথ্য খুঁজছে সিবিআই?
নির্যাতিতার পরিবারের তরফে প্রথম থেকেই গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল যে, মা-বাবার সম্মতি না-নিয়েই পুলিশি করিডরের মাধ্যমে আরজি কর হাসপাতাল থেকে দেহ সরাসরি পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে আসা হয়। তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতেই তড়িঘড়ি দেহ সৎকার করা হয়েছিল বলে দাবি ছিল পরিবারের। সেই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই মূলত আজকের এই অভিযান।
শ্মশানের কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করে সিবিআই আধিকারিকরা মূলত যে বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন:
- আইনি নিয়ম পালন: একটি দেহ দাহ করার আগে ও পরে যে সমস্ত আইনি কার্যকলাপ বা নিয়মাবলী থাকে, সেদিন তা সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছিল কি না।
- তড়িঘড়ি সৎকারের তত্ত্ব: নির্যাতিতার দেহ যখন শ্মশানে আনা হয়, তার আগে আর কতগুলি দেহের লাইন ছিল এবং নিয়ম ভেঙে তড়িঘড়ি এই দেহটি আগে দাহ করা হয়েছিল কি না।
- রাজনৈতিক চাপ: সেদিন শ্মশানের দায়িত্বে কারা ছিলেন এবং তড়িঘড়ি দাহ করার জন্য শ্মশানের কর্মী বা আধিকারিকদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক নেতৃত্ব যোগাযোগ করেছিলেন কি না।
- ডিউটি রোস্টার ও রেজিস্টার খাতা: ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে শ্মশানে কোন কর্মীরা ডিউটিতে ছিলেন, তাঁদের নাম-পরিচয় এবং ফোন নম্বর সংগ্রহের পাশাপাশি সেদিনের রেজিস্টার খাতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়।
নজরে সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওগ্রাফি
এদিনের তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপের সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফি করা হয়েছে। এছাড়াও, আরজি কর হাসপাতাল থেকে পানিহাটি শ্মশানে দেহ নিয়ে যাওয়ার গতিপথ ট্র্যাক করতে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ এবং ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিবিআই। ওই রাস্তার সমস্ত সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজও সিটের গোয়েন্দারা নতুন করে খতিয়ে দেখছেন।
মাঝপথে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া কার্যত থমকে গেলেও, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক আবহের পর সিবিআইয়ের এই হাই-প্রোফাইল পুনর্তৎপরতা আরজি কর মামলার জল কোন দিকে গড়ায়, এখন সেটাই দেখার।


Recent Comments