সুরের জাদুকর রাহুল দেব বর্মন ওরফে পঞ্চম দায়ের কালজয়ী সৃষ্টিকে এক অভিনব শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে প্রস্তুত চন্দননগর। এক বিরল সাঙ্গীতিক সন্ধ্যার সাক্ষী হতে চলেছেন আপামর সঙ্গীতপ্রেমী মানুষ। কিংবদন্তি সুরকার আর ডি বর্মনের চিরসবুজ সুরের মেলবন্ধনে ধ্রুপদী ভাবধারা ও আধুনিক শৈলীর এক অনন্য যুগলবন্দি নিয়ে আয়োজিত হতে চলেছে একটি বিশেষ কনসার্ট— “ফরএভার পঞ্চম – পার্ট ৫” (Forever Pancham – Part 5)। আর এই গোটা অনুষ্ঠানের মূল কাণ্ডারি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন স্বনামধন্য বাঁশীবাদক তথা পদ্মশ্রী পণ্ডিত রনু মজুমদার (Pt. Ronu Majumdar), যিনি নিজে দীর্ঘকাল পঞ্চম দায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
“ক্লাসিক্যাল নোটস উইথ রক টিউন” (Classical Notes with Rock Tune) থিমের ওপর ভিত্তি করে এই মেগা কনসার্টটি আজ, ১৪ জুন ২০২৬ (রবিবার) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পশ্চিমবঙ্গের চন্দননগরের রবীন্দ্র ভবনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
মঞ্চে একঝাঁক চাঁদের হাট: সুরের মেলবন্ধন
পণ্ডিত রনু মজুমদারের পাশাপাশি এই বিশেষ সন্ধ্যায় মঞ্চ আলো করে উপস্থিত থাকছেন ভারতীয় সঙ্গীত জগতের একঝাঁক প্রথিতযশা শিল্পী। তবলা বাদনে থাকছেন প্রখ্যাত পণ্ডিত তনয় বোস, ট্রাম্পেটে দেখা যাবে জনপ্রিয় কিশোর সোধাকে, স্যাক্সোফোনে থাকছেন রাজ সোধা এবং সেতারের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করতে প্রস্তুত রাহুল চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে থাকছেন কলকাতার প্রথম সারির একদল দক্ষ সেশন মিউজিশিয়ান। বাঁশি, তবলা, ট্রাম্পেট, স্যাক্সোফোন এবং সেতারের যৌথ ধ্বনিতে আর ডি বর্মনের আইকনিক কম্পোজিশনগুলি আজ নতুন মাত্রায় পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠবে এই মঞ্চে।
আর ডি বর্মন ও রনু মজুমদার: এক ঐতিহাসিক যুগলবন্দি
ভারতীয় চলচ্চিত্র সঙ্গীতের ইতিহাসে সুরকার আর ডি বর্মন এবং বাঁশীবাদক রনু মজুমদারের পেশাদার ও ব্যক্তিগত রসায়ন এক বিশেষ অধ্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়:
- বলিউড যাত্রা: পণ্ডিত রনু মজুমদারের অফিশিয়াল জীবনী অনুযায়ী, ১৯৮১ সালে স্বয়ং আর ডি বর্মনের হাত ধরেই তাঁর বলিউড সফরের সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম দায়ের সঙ্গীত দলের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে ওঠেন।
- স্মৃতির মণিকোঠা: রনু মজুমদার বরাবরই আর ডি বর্মনের অভাবনীয় সাঙ্গীতিক প্রতিভা এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সুরকে মিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করে এসেছেন। বিগত ২০২৫ সালে পঞ্চম দায়ের জন্মবার্ষিকীতেও তিনি তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার বহু সোনালী স্মৃতি রোমন্থন করেছিলেন।
- আইকনিক সৃষ্টি: আশির দশক এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে হিন্দি চলচ্চিত্রের বহু কালজয়ী গানে যে অবিনশ্বর বাঁশির সুর শোনা যায়, তা এই জুটিরই ফসল। এই সময়ে তিনি আশা ভোঁসলে, কিশোর কুমার এবং গুলজারের মতো কিংবদন্তিদের সঙ্গেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন।
রনু মজুমদারের অফিশিয়াল প্রোফাইলের একটি উল্লেখযোগ্য উক্তি অনুযায়ী, তিনি পঞ্চম দায়ের “শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত” তাঁর মিউজিক্যাল টিমের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। চন্দননগরের আজকের এই আয়োজন সেই ঐতিহাসিক সঙ্গীত-যাত্রাকেই আরও একবার স্মরণ করার এক পরম সুযোগ।


Recent Comments