রিষড়া (Rishra)। এই নামটা শুনলেই এখন এলাকা জুড়ে থমথমে পরিবেশ। বৃহস্পতিবার রাতে যা ঘটল, তাতে স্তম্ভিত এলাকাবাসী। বাড়ির ভেতর থেকে এক তরুণীর গলাকাটা দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হুগলি (Hooghly) জেলার এই শিল্পাঞ্চলে। সবথেকে মর্মান্তিক বিষয় হলো, যে ঘরে ওই তরুণীর নিথর দেহ পড়ে ছিল, তার পাশেই পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে ছিল তাঁর ছোট্ট মেয়ে।
মৃতার নাম মণিকা সরকার। জানা গিয়েছে, মণিকার স্বামী দীপঙ্কর সরকার কর্মসূত্রে দিল্লি (Delhi) থাকেন।
তবে কি ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা ছিল? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য? সবটাই এখন পুলিশের তদন্তের আওতায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার দীপঙ্কর বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু বাড়ির ভেতরে পা রাখতেই তাঁর পায়ের তলার মাটি সরে যায়। স্ত্রী মণিকার রক্তাক্ত দেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। খবর দেওয়া হয় রিষড়া থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে খুন করা হয়েছে তরুণীকে। তবে খুনের মোটিভ কী, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীপঙ্কর বাইরে থাকলেও মণিকা রিষড়ার ওই বাড়িতেই থাকতেন। কোনো বহিরাগত কি রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকেছিল? নাকি পরিচিত কেউ এই নৃশংস কাণ্ড ঘটিয়েছে? ঘরের দরজা ভাঙা ছিল না কি ভিতর থেকে বন্ধ ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়দের দাবি, মণিকা অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন। এমন ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।
সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো ওই শিশুটির মানসিক অবস্থা। নিজের মায়ের মৃতদেহ থেকে কয়েক হাত দূরে ঘুমিয়ে থাকা শিশুটি যে ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হতে চলেছে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন সকলে। শিশুটিকে আপাতত পরিবারের অন্য সদস্যদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।
পুলিশ এলাকাটির সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। দীপঙ্করকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তার সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। তবে খুনের এই ঘটনায় রিষড়ার মতো একটি শান্ত এলাকায় নেমে এসেছে আতঙ্কের ছায়া। অপরাধী এখনো ধরা না পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। পুলিশ খুব শীঘ্রই এই ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারবে বলে আশাবাদী।


Recent Comments