দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে ভয়টা বিশ্বকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, সেই পরমাণু যুদ্ধের (Nuclear War) আশঙ্কা কি এবার বাস্তবে পরিণত হতে চলেছে? স্নায়ুযুদ্ধের (Cold War) সময় থেকে চলে আসা পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের শেষ দেওয়ালটিও ধসে পড়ল। আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, America এবং Russia-র মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ‘New START’ (Strategic Arms Reduction Treaty)-এর মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেল। কোনো পক্ষই এই চুক্তি নবীকরণ (Renew) করতে রাজি না হওয়ায়, বিশ্বজুড়ে এবার নতুন করে ‘Arms Race’ বা অস্ত্র প্রতিযোগিতার দামামা বেজে গেল।
কী এই New START চুক্তি? ২০১০ সালে প্রাগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Barack Obama এবং রুশ প্রেসিডেন্ট Dmitry Medvedev এই চুক্তিতে সই করেছিলেন। এই চুক্তির মূল শর্ত ছিল: ১. দুই দেশই তাদের মোতায়েন করা বা অ্যাক্টিভ Nuclear Warhead-এর সংখ্যা ১৫৫০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবে। 2. Intercontinental Ballistic Missile (ICBM) এবং বোমারু বিমানের সংখ্যাও নির্দিষ্ট থাকবে। ৩. একে অপরের পরমাণু ঘাঁটি পরিদর্শন (Inspection) করতে পারবে।
কেন ভাঙল এই চুক্তি? ২০২৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই চুক্তির মেয়াদ ছিল। কিন্তু Ukraine যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে Global Geopolitics-এর সমীকরণ বদলে যাওয়ায় Russia আগেই এই চুক্তি থেকে নিজেদের ‘সাসপেন্ড’ করেছিল। Vladimir Putin অভিযোগ করেছিলেন, NATO এবং US এই চুক্তির আড়ালে রাশিয়ার ক্ষতি করতে চাইছে। অন্যদিকে, Washington-এর দাবি, রাশিয়া চুক্তি মেনে চলছে না। শেষমেশ আলোচনার টেবিলে কোনো সমাধান না মেলায়, গতকাল মাঝরাত থেকে এই চুক্তি ‘Dead’ বা বাতিল বলে গণ্য হচ্ছে।
বিশ্বের বিপদ কতটা? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি ছিল বিশ্বের দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে একমাত্র আইনি বাঁধন। এটি সরে যাওয়ার অর্থ হলো—এখন থেকে America বা Russia ইচ্ছেমতো হাজার হাজার Nuclear Warhead তৈরি ও মোতায়েন করতে পারবে। কেউ কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নয়। Stockholm International Peace Research Institute (SIPRI)-এর মতে, এর ফলে চীন (China)-ও তাদের পরমাণু ভাণ্ডার বাড়াতে উৎসাহিত হবে, যা এশিয়ার জন্য অশনি সংকেত।
UN-এর উদ্বেগ: রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব (UN Secretary-General) এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, “পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের শেষ স্তম্ভটি ভেঙে পড়ল। বিশ্ব এখন অনেক বেশি অরক্ষিত (Vulnerable)।”
একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন, অন্যদিকে দুই সুপারপাওয়ারের এই পরমাণু-বিচ্ছেদ—সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল কি বিশ্বের জন্য কোনো বড় দুর্যোগ ডেকে আনছে? উত্তর খুঁজছে কূটনৈতিক মহল।
