নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উত্তরপ্রদেশ সফরের দুটি কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের নেতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, শনিবারের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীর দিন মুম্বই থেকে আন্দোলন শুরু করা হবে।
সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অভিজিৎ দীপকে জানান, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করলে গান্ধীজয়ন্তী থেকে তাঁদের আন্দোলন শুরু হবে। মুম্বই থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন শহরে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে গণতন্ত্র রক্ষার নামে সাধারণ মানুষকে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই উত্তরপ্রদেশে জ্ঞানেশ কুমারের নির্ধারিত দুটি কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার মেরঠে নতুন ভোটারদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ করার কথা ছিল। পাশাপাশি আগামী সোমবার বারাণসীতে ‘জেন-জি’-র সঙ্গে একটি মতবিনিময় কর্মসূচিও ছিল। দুটি অনুষ্ঠানই আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে কর্মসূচি স্থগিতের সঙ্গে সাম্প্রতিক বিতর্কের কোনও যোগ নেই বলেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের এক আধিকারিকের বক্তব্য, বিভিন্ন কারণে নিয়মিতভাবেই অনুষ্ঠানের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সময়সূচি, অনুষ্ঠানস্থল পাওয়া যাচ্ছে কি না এবং প্রাকৃতিক পরিস্থিতির মতো বিষয় বিবেচনা করেই কর্মসূচির দিন বদল করা হয়। তাই এই সিদ্ধান্তকে বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয় বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের অন্দরমহলের মতপার্থক্য নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সঁধু এবং বিবেক জোশীকে অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা আপত্তি জানিয়েছেন। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম যুক্ত করার মতো বিষয়েও তাঁদের আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কমিশনারদের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ঐকমত্য বজায় রাখা হয় বলেই কমিশনের দাবি।
বিতর্কের মধ্যেই বিরোধী দলগুলির একাংশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছে। একই দাবি জানিয়েছে সিজেপিও। ফলে একদিকে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জোরালো হয়েছে বিতর্ক।


Recent Comments