বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপকে ঘিরে ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শক্তি বাড়িয়ে এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের শুক্রবারের বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে শুক্রবার সকালে একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। ওই এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্তও অবস্থান করছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫.৮ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, শনিবারের মধ্যে নিম্নচাপটি আরও সুসংহত হতে পারে। রবিবার তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর সোমবার, ২৬ অক্টোবর, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এই নিম্নচাপ।
পরবর্তী দু’দিনে ঘূর্ণিঝড়টি আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এরপর পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ওড়িশার উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে তার নাম হতে পারে ‘অর্ণব’। এই নামটি দিয়েছে বাংলাদেশ।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সোমবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির বিশেষ সম্ভাবনা নেই। তবে মঙ্গলবার থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই তিন জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুধবার পরিস্থিতি আরও প্রতিকূল হতে পারে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পরিমাণ ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ওই দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বৃহস্পতিবারও দুর্যোগের পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে। পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা জারি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠতে পারে। সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে আগামী মঙ্গলবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের যেতে নিষেধ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
উত্তরবঙ্গেও বাড়তে পারে দুর্যোগ
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির বিশেষ পূর্বাভাস নেই। তবে বুধবার আটটি জেলায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। এই ছয় জেলায় আবহাওয়া সংক্রান্ত সতর্কতা জারি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ আগামী দিনে কতটা শক্তি সঞ্চয় করে এবং তার গতিপথ কোন দিকে থাকে, তার উপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি। তাই উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও মৎস্যজীবীদের আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী নির্দেশিকার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


Recent Comments