লক্ষ্মীপুজোর সকালে ফের পথ দুর্ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পানাগড় বাইপাসে একটি কয়লাবোঝাই গাড়ির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে যাত্রীবোঝাই একটি পর্যটক বাস। রবিবার ভোরের এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে খবর। দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কী কারণে এই সংঘর্ষ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের জামুই থেকে যাত্রী নিয়ে কলকাতার দিকে যাচ্ছিল বাসটি। পানাগড় বাইপাসের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় সামনে থাকা একটি কয়লাবোঝাই গাড়ির পিছনে ধাক্কা মারে বাসটি। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আচমকা এই দুর্ঘটনায় বাসের ভিতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন সহযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত যাত্রীদের উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় আহতদের সকলের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
বাসের এক যাত্রী রবিশঙ্কর সাউয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় প্রায় ১০ জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের আঘাত গুরুতর হলেও অন্য কয়েক জনও কমবেশি চোট পেয়েছেন। দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন সহযাত্রীরাই। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে।
এই দুর্ঘটনার জেরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট রাস্তায় যান চলাচলে প্রভাব পড়ে এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হয় পুলিশ।
কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বাসটির গতি কত ছিল, চালক কোনও কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন কি না, নাকি অন্য কোনও পরিস্থিতির কারণে কয়লাবোঝাই গাড়ির পিছনে ধাক্কা লাগে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।
উৎসবের সকালে এমন দুর্ঘটনা জাতীয় সড়কে যানবাহনের নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে ভোরের দিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে চালকের সতর্কতা, উপযুক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার গুরুত্ব আরও একবার সামনে এল।


Recent Comments