শীতের আগমনের আগে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি সংক্রমণ। সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় ক্রমশ বাড়ছে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চিন্তা বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের। কাকদ্বীপ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে গত কয়েক মাসে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েছে। অক্টোবর মাসে সেই সংখ্যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
হাসপাতালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র ৪ জন। অগস্ট মাসে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪। সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে হয় ৩৫। আর অক্টোবর মাসে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৬০ জন। একের পর এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। এখনও পর্যন্ত কাকদ্বীপ হাসপাতালে ডেঙ্গি আক্রান্ত কোনও রোগীর মৃত্যুর খবর নেই। পাশাপাশি, কোনও রোগীকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে হয়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ডেঙ্গি আক্রান্ত দু’জন রোগীর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁদের কারও জ্বর নেই। দু’জনের শারীরিক অবস্থাই স্থিতিশীল। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তাঁরা। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আগামী এক থেকে দু’দিনের মধ্যেই তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।
হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণেন্দু রায় জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্ত কোনও রোগীর ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়েনি। ডেঙ্গিতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি। তাঁর মতে, নভেম্বর মাসে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে ডেঙ্গি সংক্রমণের হারও ধীরে ধীরে কমতে পারে।
অন্যদিকে, রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত কলকাতা-সহ রাজ্যের সমস্ত পুরসভা, জেলা প্রশাসন এবং মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবন এলাকায় ডেঙ্গি প্রতিরোধে পঞ্চায়েত ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন এলাকায় চালানো হচ্ছে সচেতনতামূলক প্রচার। বাড়ির আশপাশে জমে থাকা জল পরিষ্কার রাখা, মশার বংশবিস্তার রোধ করা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, কাকদ্বীপে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। আপাতত মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ঠেকাতে স্বাস্থ্য দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


Recent Comments