নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে কংগ্রেস ও ইন্ডি জোটের শরিক দলগুলি। ক্ষমতায় ফেরার লোভে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমনই অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ পরিবহণ ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। ভারতীয় জনতা পার্টির ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং ইন্ডি জোটের রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দেশের মানুষ বিরোধীদের নেতিবাচক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ জনগণের রায়কে সম্মান না করে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তা, রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী, শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অরুণ মণ্ডল, বিভাগ কো-কনভেনর রাজু সাহা এবং রাজ্য বিজেপির মিডিয়া কনভেনর অনুপম ঘোষ-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে ভারতের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে সোনোয়াল বলেন, দেশের প্রতিটি শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষের উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পগুলির যথাযথ বাস্তবায়নের ফলে ভারত আজ নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে চলেছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলিও ভারতের অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে। অথচ এই ইতিবাচক পরিবেশ নষ্ট করতে রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীরা ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছেন। দেশের মানুষ তাঁদের এই প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকাল নিয়ে প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৬০ বছর দেশ শাসন করেও কংগ্রেস দারিদ্র্য দূর করতে পারেনি, দেশের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারেনি এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। একইভাবে ইন্ডি জোটের অন্তর্ভুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস-সহ বিভিন্ন দল নিজেদের রাজ্যে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেও মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সোনোয়ালের বক্তব্য, জনগণের উন্নয়নের পরিবর্তে নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ সুরক্ষিত করাই বিরোধীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত লোভ থেকেই দেশের মানুষের মধ্যে ভুল তথ্য প্রচার এবং অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে।
অসমে অনুপ্রবেশের সমস্যা এবং কংগ্রেসের ভূমিকা প্রসঙ্গে সোনোয়াল বলেন, কংগ্রেসের শাসনকালে ১৯৮৩ সালে কার্যকর হওয়া IMDT আইন বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। এই আইন ভারতীয় নাগরিকদের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল এবং অসমে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্তকরণ ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল বলে দাবি করেন তিনি। বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা, ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবিতে অসমে দীর্ঘ ছয় বছর আন্দোলন চলেছিল। কিন্তু কংগ্রেস সরকার সেই দাবি পূরণে আন্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্ট IMDT আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে বাতিল করে দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সোনোয়ালের বক্তব্য, কংগ্রেসের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বারবার দেশের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকে বিপন্ন করেছে।
জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নেও কংগ্রেস ও বিজেপি সরকারের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর দাবি, কংগ্রেসের শাসনকালে ভারতের উপর একাধিক আক্রমণ হলেও তার যথাযথ জবাব দেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত শত্রুপক্ষের আক্রমণের কঠোর জবাব দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আত্মমর্যাদাশীল ও শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। অপারেশন সিঁদুরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতা ও দক্ষতা দেশবাসীকে গর্বিত করেছে। দেশ-বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়রা সেনাবাহিনীর বীরত্বের প্রশংসা করেছেন। অথচ সেই সময়েও কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও বিরোধীদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রমাণ করে যে দেশের স্বার্থের চেয়ে দলীয় স্বার্থই তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন সর্বানন্দ সোনোয়াল। তিনি বলেন, কংগ্রেসের শাসনকালেই দেশে দশবার Special Intensive Revision বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। অথচ বর্তমানে একই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, SIR-এর মূল উদ্দেশ্য একটি নির্ভুল ও স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা, যেখানে প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম থাকবে এবং কোনও বিদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম অন্তর্ভুক্ত হবে না। সোনোয়াল বলেন, “ভোটার তালিকায় প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের নাম থাকা উচিত। কোনও বিদেশি অনুপ্রবেশকারীর নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত নয়।” তাঁর মতে, ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের নাগরিকদেরই জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার রয়েছে। ভোটার তালিকায় বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত হলে তা দেশের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশের সমস্যা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে সোনোয়াল বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, অনুপ্রবেশের সমস্যা মোকাবিলায় তৃণমূল সরকার প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখায়নি। অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই দেশের নিরাপত্তা এবং বিদেশি অনুপ্রবেশের সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সোনোয়ালের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি রাজ্যকে শক্তিশালী ও নিরাপদ করে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
নির্বাচনে পরাজিত হলেই নির্বাচন কমিশন, ইভিএম এবং সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আক্রমণের প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী ও তাঁর সহযোগীরা নির্বাচনে পরাজিত হলেই কখনও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন, আবার ব্যালট পেপারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। জনগণের রায়কে সম্মান করার পরিবর্তে নিজেদের পরাজয়ের দায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি। সোনোয়াল বলেন, নির্বাচন কমিশন ও সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠান দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে এবং নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা প্রকৃতপক্ষে দেশের গণতন্ত্রের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেওয়ার শামিল।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক চরিত্রের সমালোচনা করে সোনোয়াল বলেন, “Congress for Corruption, Congress for Communalism, Congress for Conflict।” অর্থাৎ তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, কংগ্রেসের রাজনীতি দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িক বিভাজন এবং সংঘাতকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হয়েছে। দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে বিভাজনের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেওয়াই কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক চরিত্র বলে মন্তব্য করেন তিনি। সোনোয়াল দাবি করেন, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে কংগ্রেস ৫৬টি রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে। তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাট এবং উত্তরপ্রদেশে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশের জনগণ কংগ্রেসের নেতিবাচক রাজনীতিকে ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ‘গরিবি হটাও’ স্লোগান দিয়ে নির্বাচন জিতলেও দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেনি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বাস্তব কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনেছেন বলে দাবি করেন তিনি। সোনোয়ালের বক্তব্য, গত ১২ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ভারতের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রসঙ্গ তুলে সোনোয়াল বলেন, প্রায় ৫০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসুরক্ষার সুবিধা পেয়েছেন। পাশাপাশি দরিদ্র মানুষের জন্য পাকা বাড়ি, শৌচালয়, রান্নার গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাদ্যশস্য, চিকিৎসা পরিষেবা এবং গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, একজন সাধারণ নাগরিককে প্রকৃত অর্থে স্বনির্ভর ও ক্ষমতায়িত করে তুলতে যে সমস্ত মৌলিক পরিষেবা প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার সেগুলি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করেছে।
‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ এবং ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’ নীতির কথা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশের প্রতিটি রাজ্য, প্রতিটি সম্প্রদায় এবং প্রতিটি শ্রেণির মানুষকে উন্নয়নের মূলস্রোতে যুক্ত করেছেন। এর ফলে ভারতের জাতীয় শক্তি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। আত্মনির্ভর ভারত গড়ার লক্ষ্য পূরণে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সোনোয়াল। শিক্ষা, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং সামাজিক চিন্তাধারায় পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভারতকে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ অতীতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।
দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের সমাবেশকে ব্যর্থ কর্মসূচি বলে কটাক্ষ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস ও ইন্ডি জোটের নেতারা বিপুল জনসমাগমের দাবি করলেও বাস্তবে জনগণের প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। সোনোয়ালের বক্তব্য, দেশের মানুষ বিরোধীদের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝে গিয়েছেন। কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলির কাছে দেশের উন্নয়ন বা সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের কোনও সুস্পষ্ট নীতি নেই। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ক্ষমতা দখল করে নিজেদের রাজনৈতিক ও পারিবারিক স্বার্থ রক্ষা করা। বিরোধীরা অন্যান্য দেশের অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির অনুকরণে ভারতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে দেশের জনগণ সেই প্রচেষ্টার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য বুঝে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তনের কথাও তুলে ধরেন সর্বানন্দ সোনোয়াল। তাঁর বক্তব্য, কংগ্রেসের শাসনকালে অসম-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্ব ভারত দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে গত ১২ বছরে এই অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। রেলপথের ডাবলিং, বৈদ্যুতিকীকরণ, বুলেট ট্রেনের ঘোষণা এবং যোগাযোগ ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় যে উন্নয়নের কথা উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষ কল্পনাও করতে পারতেন না, প্রধানমন্ত্রী মোদী তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। সোনোয়ালের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তর-পূর্ব ভারতকে শুধু ‘North East’ হিসেবে দেখেন না, বরং ‘New Engine for India’s Growth’ অর্থাৎ ভারতের উন্নয়নের নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করেন।
আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সোনোয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল প্রতিটি সংকটের মধ্যেও নতুন সম্ভাবনা খুঁজে বের করা। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শিতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ফলে ভারত প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে। বিরোধীরা দেশে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করলেও সরকার সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। সার, এলপিজি, এলএনজি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখতে ভারত সরকার প্রস্তুত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে দেশজুড়ে জনগণের সাড়া সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে সোনোয়াল বলেন, বিভিন্ন স্থানে এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করছেন। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষ উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল প্রত্যক্ষ করেছেন বলেই এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। যাঁরা একসময় শৌচালয়, পাকা বাড়ি, বিদ্যুৎ, রান্নার গ্যাস, খাদ্যসুরক্ষা এবং চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাঁদের জীবনে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলি ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেশজুড়ে বিজেপির শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এই কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, অরাজকতা কোনও সুস্থ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। গণতন্ত্রের সুরক্ষা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা এবং দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা শুধু কোনও একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব নয়, প্রতিটি ভারতীয় নাগরিকের জাতীয় কর্তব্য। দেশের পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তোলার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইতিবাচক উন্নয়নের রাজনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং নেতিবাচক রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব প্রতিহত করতে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে বলেও মন্তব্য করেন সোনোয়াল।
‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য সম্পর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, আগামী দুই দশকে ভারতকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার যে লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্থির করেছেন, তার সবচেয়ে বড় সুফলভোগী হবেন দেশের তরুণ প্রজন্ম। নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং উন্নত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেই কারণেই অরাজকতা ও নেতিবাচক রাজনীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
ইন্ডি জোটে বামপন্থী দলগুলির অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে সোনোয়াল বলেন, কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে তৃণমূল কংগ্রেস, বামপন্থী দল-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে। দিল্লির রামলীলা ময়দানে তাদের একত্রিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাঁর সমালোচনা কেবল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং সমগ্র বিরোধী জোটের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, এই জোটের রাজনৈতিক কার্যকলাপ দেশের স্বার্থ এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার পরিপন্থী।
সাংবাদিক সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, দেশের জনগণ বারবার কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলির নেতিবাচক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আগামী দিনেও করবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত উন্নয়ন, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ন্যায় এবং আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে চলেছে বলে দাবি করেন তিনি। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মর্যাদা রক্ষা, জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।


Recent Comments