রূপেন্দ্র নারায়ণ রায়: (চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কোম্পানি সেক্রেটারি, হার্ভার্ডের প্রাক্তনী, বিশ্বখ্যাত সংস্থা ডিলয়েটের প্রাক্তন এমডি)

Impressed by the courtesy of the Election officials and central forces all of whom were ladies. A big thank you.
পিয়ালি মিত্র (সাংবাদিক)

২০০৯ সাল থেকে ভোট কভার করছি। এই প্রথমবার ভোটে কোনো রিপোর্টার, ক্যামোরা পার্সনকে হুমকির মুখে পড়তে হয়নি, কেউ মার খাইনি, কারও গাড়ি ভাঙচুর হয়নি (অন্তত আমার জানা নেই। ভুল হলে জানাবেন)। একজন সাংবাদিক হিসাবে এটুকুই সুস্থ পরিবেশ কাজের প্রত্যাশা থাকে। তো ভোটের শেষে আমরা বাংলার রিপোর্টারা “We All can mark ourselves safe” তাই না?
(এর পিছনে দয়া করে কেউ রাজনীতি খুঁজবেন না।)
রূপা মজুমদার (প্রকাশক, পরামর্শদাতা— টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ)

“No bloodshed, no mother’s lap left empty, no child orphaned.
Overall a peaceful election marked by strict vigilance throughout the day. Commendable work by the Election Commission and its entire team.
People came out spontaneously to vote.
Now the same level of security and vigilance must continue after the results are declared on 4th May, so that there is no post-poll violence, no bloodshed, and no grief for any family. Democracy does not end with voting; it must continue with peace and respect for the people’s verdict.
The only concern was the number of voters left out due to SIR. Hopefully all genuine cases will be reviewed and rectified in due course through the prescribed process.
Today stands as a victory of democracy and a victory of the people of Bengal.”
রাজীব দত্ত (সাংবাদিক)

“রেকর্ডের পাহাড় বাংলায়: স্বাধীনতার পর দেশে সর্বোচ্চ ভোটের নজির গড়ল পশ্চিমবঙ্গ!
প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফাতেও নিজেদের রেকর্ড নিজেরাই ভেঙে দিল পশ্চিমবঙ্গ। নির্বাচনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করে দেশের সর্বকালের সর্বোচ্চ ভোটের হারের রেকর্ড এখন বাংলার দখলে।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৯২.৪৭ শতাংশ। যদিও এটি প্রাথমিক হিসেব এবং কমিশনের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ হওয়া এখনও বাকি, তবুও প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি দেশের আগের সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
এক নজরে বাংলার ভোটের হার:
প্রথম দফা (১৫২ আসন): ৯৩.১৯ শতাংশ (২৩ এপ্রিল)
দ্বিতীয় দফা: ৯২.৪৭ শতাংশ (প্রাথমিক)
দুই দফা মিলিয়ে গড় হার: ৯২.৮৫ শতাংশ
প্রথম দফার ভোটগ্রহণের পরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছিলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এত বিপুল পরিমাণ ভোট আগে কখনও পড়েনি। দ্বিতীয় দফাতেও সেই ধারা বজায় রেখে বাংলার ভোটাররা প্রমাণ করে দিলেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ক্ষমতা। এই বিপুল জনসমর্থন এবং বুথমুখী হওয়ার প্রবণতা জাতীয় রাজনীতিতেও এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
সবুজ মুখোপাধ্যায় (সাংবাদিক)

বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের বৃহত্তম উৎসবে বাংলায় এবার ২৭ লক্ষ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারে। এই ২৭ লক্ষ ও নানা কারণে সন্দেহভাজন আরও ৭ থেকে ৮ লক্ষ নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করার কথা ছিল আপিল ট্রাইবুনালের। প্রথম দফায় ১৬ টি জেলায় ১৫২ আসনে ভোট হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত মাত্র ১৩৬ জনকে ছাড়পত্র দিয়েছিল ট্রাইবুনাল। দ্বিতীয় দফার ভোট হতে আর কদিন মাত্র বাকি। সুপ্রিম কোর্ট তার বিশেষ ক্ষমতাবলে ভোটার তালিকা ফ্রিজ করার সময়সীমা বাড়িয়েছে বলে, ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে অবধি ট্রাইবুনালের রায়ে পাশ করা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন ঠিকই। কিন্তু, প্রথম দফার অভিজ্ঞতা থেকে দ্বিতীয় দফায় কার্যত ধরেই নেওয়া হয়েছে, এবারও ট্রাইবুনাল মূষিক প্রসব করবে। লক্ষ-লক্ষ ভোটারের মধ্যে মেরেকেটে কয়েকশো ভোটার ভোটদানের ছাড়পত্র পাবেন।
কেন এই বিপন্নতা? পর্যবেক্ষকদের অনেকেই কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ঘাড়ে যাবতীয় দায় দায়িত্ব চাপিয়ে নিশ্চিত হতে চাইছেন না। তাঁদের বক্তব্য খুব স্পষ্ট, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের শাসকশিবিরের মামলাতেই কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া বিচারবিভাগের হাতে চলে যায়। খসড়া তালিকায় কমবেশি ১ কোটি ৩০ লক্ষ নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-র ক্যাটেগরিতে ছিল। কমিশন ও রাজ্যের আধিকারিকরা মিলে কিন্তু তার মধ্যে কমবেশি ৭০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি করেছিল। সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে সওয়াল ও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে কমিশনের বাগবিতণ্ডার ফলেই কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাস বাদবাকি ৬০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তির ভার বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দেয়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্ব তৈরি কমিটির হাতেই পুরো প্রক্রিয়া চলে যায়। কমিশনের আর কিছু করা থাকে না।
যে কারণে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, ” ট্রাইবুনাল আমার অধীনে কাজ করছে না। পুরোটাই বিচারবিভাগের হাতে। ওরা যখন যত নাম নিষ্পত্তি করবে তখন সেই মতো তালিকা প্রকাশ করতে প্রস্তুত আছি আমরা”। প্রসঙ্গত, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সম্প্রতি মন্তব্য করেন, “সবই চলছিল। হঠাৎ দেখলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়াল করলেন আর পুরো ব্যাপারটা বিচারবিভাগের হাতে চলে গেল”।
‘কমিশন কিন্তু কারুকে বিবেচনাধীন করেনি’—
রাজ্যের শাসকশিবির কিন্তু এখনও নাম বাদ যাওয়ার দায় কমিশনের উপর চাপাচ্ছে। এমতাবস্থায়, ‘অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স’ নীতিতে খেলতে শুরু করল কমিশনও। এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, “আমরা কিন্তু কারুকে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) করিনি। রাজ্য সরকার, কিছু রাজনৈতিক দল, কিছু ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে গেলেন। জানালেন, নির্বাচন কমিশনের উপর তাঁদের কোনও আস্থা নেই। অন্যদিকে, কমিশন বলল, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে তারা প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোগত সহায়তা পাচ্ছে না। তখনই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) কথাটি এল এবং সেই বিবেচনার দায়িত্ব গেল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে। ওই আধিকারিকরা ৬০ লক্ষের মধ্যে ৩৩ লক্ষকে বৈধ ভোটার হিসেবে গণ্য করলেন এবং ২৭ লক্ষ নাম বাদ গেল। আদালতের রায়েই এই ২৭ লক্ষ বৈধ না অবৈধ ভোটার, তার দায়িত্ব ট্রাইবুনালের হাতে গেল। ট্রাইবুনাল যতক্ষণ-না নাম দিচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কিছু করার নেই। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলে দিয়েছে, আপিল ট্রাইবুনালের দায়িত্ব কমিশনের হাতে থাকবে না। এই বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) বিষয়টি না-থাকলে এই পরিস্থিতি হত না। সে ক্ষেত্রে ইআরও কোনও নাম বাদ দিলে তা ডিইও-র কাছে আসত, ডিইও বাদ দিলে সিইও-র কাছে আসত। আদালতের নির্দেশ, কোনও সিভিল অফিসার এর মধ্যে যুক্ত থাকতে পারবেন না। একমাত্র জুডিশিয়ার অফিসাররা সিদ্ধান্ত নেবেন। ট্রাইবুনাল যখন যাঁদের ছাড় দেবে তখন তাঁরা ভোট দিতে পারবেন”।
রঞ্জিৎ শূর (সাধারণ সম্পাদক, এপিডিআর)

রঞ্জিৎ শূর নির্বাচন কমিশন ও তৃণমূলকে সমানভাবে দায়ী করছেন। তাঁর কথায়, “কোনও বড় রাজনৈতিক দল পুরোদস্তুর এসআইআর-এর বিরোধিতা করেনি। কংগ্রেস নয়, তৃণমূল নয়, সিপিআই(এম) নয়, এমনকি, অতিবাম সিপিআই(এমএল) লিবারেশনও নয়। এখন ভোটের আগে বাদ-পড়াদের নিয়ে হাওয়া গরম করছে সবাই।
২০০২ সালে নির্বাচন কমিশন কিন্তু এসআইআর করেনি। শুধু আইআর (ইনটেনসিভ রিভিশন) করেছিল। তথ্যের অধিকার আইনে সেবারের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কমিশনের কাছে চিঠি গেলে তারা নিরুত্তর থাকে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস তাদের আর্কাইভ থেকে সেবারের নথিপত্র বার করে। দেখা যায়, এসআইআর নয়, শুধু আইআর।
রাষ্ট্র ও কর্পোরেট শক্তি চাইছে, দেশের ১০ শতাংশ মানুষকে বেনাগরিক করে দিয়ে দাস-শ্রমিকে পরিণত করা। তাঁদের মধ্যে মুসলিমরা রয়েছেন, নিম্নবর্গের হিন্দুরা রয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে মুসলিমরা কেন দলেদলে ভারতে আসতে যাবেন? একেবারেই হতদরিদ্র কিছু মানুষ এখানে এসে রাস্তার ধারে ঝুপড়ি করে জঞ্জাল কুডনোর কাজ করেন ঠিকই। তবে সেই সংখ্যাও হাতে গোনা।
বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা চলে আসছেন এ-দেশে। তাহলে অনুপ্রবেশকারী বলে কাদের দাগিয়ে দিতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার? ২০০৩ সালে যখন নাগরিকত্ব আইনেকর সংশােধন হয়, তখন ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটি আইনি বৈধতা পায়। তার আগে ‘অনুপ্রবেশকারী’ শব্দটাই ছিল না। আর, জনপ্রতিনিধিত্ব আইনে এসআইআর বলেও কিছু ছিল না।”
প্রদোষ পাল (বিশিষ্ট শিল্পী)

হিংসা মূক্ত নির্বাচন করাই নির্বাচন কমিশনের কাজ, তারজন্য গদগদ হওয়ার কিছু নেই। সুখের চূড়ায় থাকা সুবিধাভোগী বাবুদের চরিত্র চিরকালই এমন। পাড়ায় কারো ঘরে আগুন লেগে কেউ পুড়ে মরলেও তার থেকে নিজের বাড়ি নিরাপদ কিনা তার দিকেই এদের নজর থাকে বেশি। এত লক্ষ বৈধ ভোটারকে ভোট দিতে দিলনা বা দেওয়ার ব্যবস্থা করলনা যে নির্বাচন কমিশন, যার জেরে শতাধিক মানুষের প্রাণ গেল, সে নিয়ে এই সুবিধাভোগীদের বিন্দুমাত্র দুঃখ, লজ্জা কিচ্ছু নেই!
আরে এটা কি তিনু-বিজুদের ব্যাপার! এ তো মানবতার প্রশ্ন!
(সামাজিক মাধ্যম থেকে সংকলন। অশোক সেনগুপ্ত)।


Recent Comments