দীর্ঘদিনের অবহেলা আর প্রশাসনিক উদ্যোগের অভাবে শেষমেশ নিজেরাই উদ্যোগী হলেন গ্রামবাসীরা। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমন্ডি ব্লকের সদুকুড়া তেসলাহার থেকে দাসবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার বেহাল দশা চরম দুর্ভোগে ফেলেছিল স্থানীয়দের। বাধ্য হয়ে সেই রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত লাগালেন এলাকার বাসিন্দারাই।স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তা শুধু যাতায়াতের পথ নয়—এলাকার মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানো, ছাত্রছাত্রীদের স্কুলে যাওয়া, কিংবা অসুস্থদের দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য এই রাস্তার উপরই নির্ভর করতে হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার করুণ অবস্থার কারণে সমস্যায় পড়ছিল সাধারণ মানুষ। বহুবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।অবশেষে আর অপেক্ষা না করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে একজোট হয়ে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন গ্রামবাসীরা। তাদের এই উদ্যোগ যেমন আত্মনির্ভরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তেমনই প্রশাসনিক ব্যর্থতার দিকটিও সামনে এনে দিয়েছে।এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
কুশমন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রেখা রায় অভিযোগ করেন, বিজেপির মদতে টাকার বিনিময়ে এই ধরনের কাজ করানো হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে।অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী তাপস চন্দ্র রায় পাল্টা দাবি করেন, রাজ্যে উন্নয়নের বড় বড় দাবি করা হলেও বাস্তবে কুশমন্ডির চিত্র ভিন্ন। তাঁর কথায়, “পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার পরও যদি গ্রামবাসীদের নিজেদের উদ্যোগে রাস্তা তৈরি করতে হয়, তাহলে উন্নয়নের দাবি কতটা বাস্তব, তা মানুষ বুঝে গিয়েছে।”গ্রামবাসীদের এই উদ্যোগ একদিকে যেমন ঐক্য ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিচ্ছে, অন্যদিকে উন্নয়ন ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র করে তুলেছে। ভোটের মুখে এই ঘটনাকে ঘিরে কুশমন্ডির রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধছে।

Recent Comments